প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই বিপ্লবের উত্তাল সময়ের মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছাত্র-জনতার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ ইসমাইল। এক পর্যায়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন তিনি। ঢাকা মেডিকেলে খোঁজ করতে গিয়ে মা জানতে পারেন, তার ছেলে বেঁচে নেই এবং তার লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। পরে মর্গে থাকা ৩ থেকে ৪০০ লাশের মধ্যে পোশাক দেখে তিনি ছেলেকে শনাক্ত করেন।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ শহীদ ইসমাইলের মা তাসলিমা আক্তারের জবানবন্দিতে এসব তথ্য উঠে আসে।
জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, "আমি শহীদ মোহাম্মদ ইসমাইলের মা। আমার ছেলে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে আনুমানিক ৩টার সময় বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগ দেয়।" ছেলের বন্ধু মনির ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে জানান, ইসমাইলকে আল্লাহ করিম মসজিদের সামনে দেখা গেছে এবং সে তাকে বাসায় ফিরে আসতে বলে। ছেলে বাসায় ফিরে না এসে আন্দোলনে থেকে যায়। তিনি জানান, "আমি আমার ছেলেকে ফোন করতে পারিনি, কারণ আমার ফোনে টাকা ছিল না।"
জবানবন্দিতে শহীদের মা বলেন, "পরে আমার বোন আকলিমা ছেলেকে ফোন দেয়, কিন্তু সে ফোন ধরে না।" কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর তার বন্ধু কালু ফোন ধরে জানান, "ইসমাইল আপনার কে হয়।" তার বোন বলেন, "আমি তার খালা।" তখন কালু জানান, "ইসমাইল গুলি খাইছে। তাকে আমরা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।"
তখন ঢাকা উদ্যান থেকে রিকশা নিয়ে তিনি, তার মা এবং বোনসহ ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিছু দূর যাওয়ার পর রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখে। তখন সেখানে কমিশনার আসিফ, কমিশনার রাজিব, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফজলে নূর তাপস ও বিপ্লব কুমার জোয়ার্দার অস্ত্রসহ উপস্থিত ছিলেন। তার সামনে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
তাসলিমা আক্তার বলেন, "আমরা রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পৌঁছাই।" তারা প্রথমে জরুরি বিভাগে যান, সেখানে গুলিবিদ্ধ বহু লোককে জীবিত ও মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তারা তলায় তলায় তার ছেলেকে খুঁজতে থাকেন। পরে একজন ডাক্তারকে তার ছেলেকে খুঁজে দিতে বললে, তিনি তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার ছেলে নেই।
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার মোবাইলে কিছু ছবি দেখান। ছবি দেখে তিনি ছেলেকে শনাক্ত করেন। ছেলে কোথায় আছে জিজ্ঞাসা করলে ডাক্তার তাকে মর্গে নিয়ে যান। মর্গে গিয়ে তিনি দেখেন, ৩০০ থেকে ৪০০ লাশ একটার ওপর একটা পড়ে আছে। ছেলের পরনের পোশাক দেখে তিনি চিনতে পারেন। তিনি দেখেন, তার মাথায় গুলি লেগেছে।
জবানবন্দিতে শহীদের মা আরও বলেন, "আমি ছেলের লাশ চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে, লাশ দেওয়া যাবে না। যার যার থানার ওসি এলে তারপর লাশ দেবে।" পরদিন সকাল ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর থানা থেকে সাইফুল দারোগা হাসপাতালে আসেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাশ পেয়ে বাসায় নিয়ে আসেন। হাসপাতাল থেকে মামলা করব না, এই শর্তে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, "আমার ছেলেকে হত্যার জন্য শেখ হাসিনা, তাপস, নানক, কমিশনার আসিফ, কমিশনার রাজিব, রাসেল, মোল্লা রুবেল, বিপ্লব কুমারসহ অনেকে দায়ী। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।" এ সময় সাক্ষী কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন