প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হয়েছে নানা আয়োজনের মাধ্যমে। আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর মধ্যে দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ হাই কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতা এবং অনেকে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরান থেকে তিলাওয়াত পাঠ করা হয়। এরপর ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্মিত ‘জুলাই অনির্বান’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শন করা হয়।
পরবর্তীতে দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, জুলাই শহীদ দিবস বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের আত্মদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার শহীদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ সম্মান, স্বীকৃতি, কল্যাণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকেও ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা, রাজনীতিবিদ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তাকে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহীদের স্মরণ করেন বক্তারা। তারা জানান, অসংখ্য ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও দৃঢ় অবস্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। বক্তারা মানবিক, স্বনির্ভর এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন টেলিফোনে যুক্ত হয়ে কথা বলেন। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা, এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরিশেষে আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন