প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা থাকলেও, শিক্ষার্থীরা ধীরগতির ওয়াই-ফাই ও দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, যদিও সংযোগ রয়েছে, তবুও অনেক সময় যথেষ্ট গতি থাকে না।
ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়াই-ফাই ২-৩ ঘণ্টা পর্যন্ত আসতে পারে না। এর ফলে অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। সামান্য বৃষ্টিতেও অনেক সময় ‘নো ইন্টারনেট’ দেখায় বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
প্রভোস্টদের কাছে এই বিষয়টি জানালেও কোন কার্যকর সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেটকে ‘কচ্ছপ গতির’ ইন্টারনেট নামে আখ্যা দিয়েছেন।
এক শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবখানে ইন্টারনেট ও পাওয়ার পেয়ে থাকেন তারা। কিন্তু কানেকশন খুব দুর্বল। যার ফলে অনলাইন শিক্ষার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে ফেসবুকে ন্যূনতম একটি মেসেজ পাঠাতেও সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে নেট আসতে এসে ৪-৫ ঘণ্টার সময় লেগে যায়।
হলের শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন ইন্টারনেট সমস্যার বিষয়ে। এছাড়া, মোবাইল নেটওয়ার্কেও তারা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে জিপি ও এয়ারটেল সিমের নেটওয়ার্ক হলে খুব একটিও কাজ করছে না। সেই সঙ্গে ওয়াই-ফাই ইন্টারনেটের সমস্যা এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের ভোগান্তি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশুনার পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ৯টি ও মেয়েদের ৬টি আবাসিক হলে ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে ওয়াইফাইয়ের গতি অত্যন্ত কম। আবাসিক হলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে সমস্যায় পড়ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সম্রাট আল হাসান বলেন, হল ব্লকের ওয়াইফাইয়ের পরিস্থিতি খুবই খারাপ, মাঝে মাঝে স্পিড থাকে আবার কখনো তা সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়।
শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, নানান সমস্যার মধ্যে তারা নিয়মিত অনলাইন মিটিং পরিচালনা করতে পারেন না, যার কারণে স্বাভাবিক অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে বাধা আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক জানান, ইন্টারনেটের স্পিড অত্যন্ত খারাপ।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও দুর্বল, বিশেষ করে গ্রামীণফোনের। অনলাইনে কার্যক্রম করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ ওয়াইফাইও ঠিকঠাক কাজ করে না।
এই সমস্যার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী বলেন, সার্ভার রুমের সমস্যাগুলোর কারণে বিদ্যুতের ওঠানামার ফলে একাধিক ডিভাইসে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ডিভাইসটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হতে পারেনা।
তিনি আরো জানান, সমস্যার সমাধানে ঢাকার সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল টিমের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা আসবে এবং ডিভাইসটি পরীক্ষা করবে। প্রয়োজনে ডিভাইসটির ব্যাকআপ ব্যবস্থা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন