প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন, গত তিন দিনে হরমুজ দিয়ে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল পরিবহন হয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হরমুজ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ এখনও যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
হিস্পানিক হেরিটেজ মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, গত তিন দিনে ওই জলপথ দিয়ে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তেল সরবরাহ হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই বিজয় অর্জন করবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন একটি সময় এসেছে যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসান ও হরমুজ পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব তারা পেয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তেহরানে আলোচনা চলছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বিশ্ব নৌ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর ও এর জলপথে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের জন্য সমুদ্র শুধু বিশাল জলরাশি নয়; এটি দেশটির ইতিহাস, পরিচয় ও জীবনের অংশ এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তার মতে, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। সমুদ্র নিরাপত্তা, বন্দর ও পরিবহনপথ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি করে, আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন জাতীয় সক্ষমতা বাড়ায়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আঞ্চলিক জলপথে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সামুদ্রিক পরিবহন ও বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তেহরান গুরুত্বের সঙ্গে পালন করছে। এ ক্ষেত্রে ইরানের নৌবাহিনী এবং সামুদ্রিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার ওপর দেশটি নির্ভর করছে। ইরানের সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সায়্যারিও সমুদ্রকে জাতীয় শক্তি, বাণিজ্য, অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল তালাই-নিক বলেছেন, নিজেদের বৈধ অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি তেহরান শান্তি চায়। তার ভাষ্য, ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকার করা হলে চলমান সংঘাত অবসানের পথ তৈরি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত মঙ্গলবার একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। সংস্থাটি জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বর মাসে যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠলেও পরিবহনব্যবস্থা এখনো নানা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে তেল সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও উপসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি এখনো যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক কাঠামোয় পুরোপুরি ফেরেনি। বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা, জাহাজ সংকট ও বাড়তি পরিবহন ব্যয় তেল সরবরাহকে প্রভাবিত করছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামও চাপের মধ্যে রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন