প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিল্লির শালীমার বাগ এলাকায় ভারী পুলিশ মোতায়েন করে পৌর কর্তৃপক্ষ মদিনা মসজিদের অংশবিশেষ এবং সংলগ্ন কিছু আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি অভিযান পরিচালনা করেছে। এ উচ্ছেদ অভিযানটি ম্যাক্স হাসপাতালের দিকে যাওয়া একটি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য করা হয়েছে।
পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, রাস্তা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে অবৈধ দখল চিহ্নিত করে এসব স্থাপনায় রাতের অন্ধকারে বুলডোজার চালানো হয়। তবে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, উচ্ছেদের আগে আইনি নোটিশ জারি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, মসজিদ কমিটি এই নোটিশের সময়সীমা এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। মদিনা মসজিদের সভাপতি মোবিন খান বলেন, তাদের আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী মূল কাগজপত্রের স্পষ্ট কপি চেয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল, যাতে তারা যথাযথ জবাব প্রস্তুত করতে পারে। কিন্তু দিল্লি পৌরসংস্থা (এমসিডি) পর পর তিনটি নোটিশ জারি করে ১৫ দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়।
মোবিন খান জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে আপিল ট্রাইব্যুনালে গিয়েছিলেন। শুনানির সময় কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে, বিদ্যুৎ মিটারসহ মসজিদের কেবল একটি তলা স্বীকৃত এবং বাকি অংশ নতুন নির্মাণ। এর জবাবে ২০০১ সালে নির্মিত তিনটি তলার নকশা ও প্রমাণ আদালতে পেশ করা হলেও ট্রাইব্যুনাল তা যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই ওপরের তলাগুলো ভাঙার অনুমতি দেয়।
মসজিদের ইমাম জারিফুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, "পুরো শালীমার বাগ এলাকার সব ঘরবাড়ি 'সাধারণ পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি'র ভিত্তিতে তৈরি। অথচ কেবল এই মসজিদটিকেই অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।"
ঘটনার খবর পেয়ে মাঝরাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এআইএমআইএম-এর দিল্লি রাজ্য সভাপতি শোয়েব জামাই। তিনি এই ঘটনাকে অসংবিধানিক উল্লেখ করে উত্তর প্রদেশের উচ্ছেদ কৌশলের সাথে তুলনা করেন। তিনি জানান, পুরো এলাকা পুলিশ কর্ডন করে ঘিরে ফেলা হয়েছিল। পরে তারা ভেতর থেকে পবিত্র কুরআন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার করেন। আপাতত মসজিদটির নিচতলা রক্ষা করা গেছে এবং তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বুলডোজার সরিয়ে নিয়ে সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত রাখা হলেও, এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন