প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার এই দুই নেতার বৈঠকে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেমন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ।
শান্তিচুক্তির অগ্রগতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে ঘোষিত চুক্তিটি ‘সফল হওয়া উচিত’ এবং তিনি আশা করেন যে আলোচনা পরিকল্পিত দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছানোর জন্য আরো ‘সহজ হবে’। পাশাপাশি, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটিকে ‘ন্যায্য’ এবং ‘ভালো’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সমঝোতা উভয় পক্ষের জন্য ইতিবাচক ফল এনে দেবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
লেবাননে ইসরায়েলের হামলার তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে, এবং এতে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। তিনি বলেন, ‘কাউকে খুঁজছেন বলে প্রতিবার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংস করার প্রয়োজন নেই। কারণ ওই ভবনগুলোতে অনেক মানুষ থাকে, আর তারা সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নয়।’
এই ইস্যুর প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলা তিনি পছন্দ করেননি, এবং এ বিষয়ে তিনি ইসরায়েলকে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের জানিয়েছি। বিষয়টি আমার ভালো লাগেনি, একেবারেই ভালো লাগেনি।’
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি টিকে থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, টিকে থাকবে।’ তিনি লেবাননের সংঘাতকে ‘ছোট যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘ইরানই বড় বিষয়। তবে সেখানে (লেবাননে) একটি ছোট সমস্যা সব সময় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, সেটি হলো হিজবুল্লাহ।’
এদিকে, হিজবুল্লাহকে মোকাবেলার দায়িত্ব সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে ট্রাম্প পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, ‘আমি ইসরায়েলকে বলেছিলাম, হিজবুল্লাহকে সামলাতে সিরিয়াকে সুযোগ দিতে। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় তারা এ কাজ আরো ভালোভাবে করতে পারবে।’ কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ইস্যু বৈঠকের আলোচ্যসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল। ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের সঙ্গে সদ্য হওয়া সমঝোতার পর তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর দিকে নজর দিচ্ছেন এবং বিশেষ করে লেবাননে সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়া চান না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন