প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতি বামপন্থি সন্ত্রাসবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই ধরনের উগ্রবাদকে সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়তে দেখছেন।
এই সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার, ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৬০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বামপন্থি রাজনৈতিক সহিংসতা এক বিশেষ ধরনের উগ্রবাদ, যার ভিত্তি সভ্যতার প্রতি গভীর বিদ্বেষ। বৈঠকে, ডানপন্থি উগ্রবাদ নিয়ে কোন আলোচনা করা হয়নি।
ডেমোক্র্যাট নেতারা এই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। মার্কো রুবিও সেখানে বলেছেন, অতি-বামপন্থি উগ্রবাদ এখন একটি দেশের সমস্যা নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই, এই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি এবং যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে এই হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বৈঠকে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের কর্মকর্তাও অংশ নেন। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে অ্যান্টিফা আন্দোলনকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাদের দাবি, অ্যান্টিফা এবং অন্যান্য অতি-বামপন্থি গোষ্ঠী সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে।
বৈঠকে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেছেন, অতি-বামপন্থি আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে, সহিংসতা, ঘৃণা এবং ঈর্ষা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য যে, বৈঠকের দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয় যা এধরনের ব্যক্তিদের উপর লক্ষ্য রাখছে, যাদের যুক্তরাষ্ট্র 'অতি-বামপন্থি সন্ত্রাসী' অথবা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্য মনে করে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নাশকতার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের চারটি সংগঠনকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এগুলো হল, জার্মানির 'অ্যান্টিফা ওস্ট', ইতালির 'ইনফরমাল অ্যানার্কিস্ট ফেডারেশন/ইন্টারন্যাশনাল রেভল্যুশনারি ফ্রন্ট', গ্রিসের 'আর্মড প্রলেতারিয়ান জাস্টিস' এবং 'রেভল্যুশনারি ক্লাস সেলফ-ডিফেন্স'।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে বিরোধী ডেমোক্র্যাট দল সমালোচনা করেছে। বুধবার, ডেমোক্র্যাট দলের ১১ জন আইনপ্রণেতা মার্কো রুবিওকে একটি চিঠি দেন যার মধ্যে তারা প্রশ্ন করেছিলেন, শুধুমাত্র বামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ওপর জোর দেওয়া হলে কি বৈধ রাজনৈতিক আন্দোলন ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অবৈধভাবে নজরদারির শিকার হতে পারে? রয়টার্সের হাতে পাওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র দপ্তরের উচিত তথ্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে কাজ করা, রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে। আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ, পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশাসনের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের সাথে মিলানোর চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে অতি-বামপন্থি ও অতি-ডানপন্থি উগ্রবাদ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বামপন্থি সন্ত্রাসবাদের ঘটনা ডানপন্থি সন্ত্রাসবাদের তূলনায় আরও বেশি ছিল। তবে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, উভয় ধরনের হামলার সংখ্যা মোটামুটি কম। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ২০২৪ সালের অভ্যন্তরীণ গবেষণায় তারা দাবি করেছিল, মতাদর্শগত কারণে সংঘটিত প্রাণহানির অধিকাংশ ঘটনার জন্য অতি-ডানপন্থি উগ্রবাদীরা দায়ী। তবে এরপর বিচার বিভাগ ঐ গবেষণাটি তাদের ওয়েবসাইট থেকে মুছে দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন