প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি স্কুলশিক্ষিকাকে ধারালো দা দিয়ে গুরুতরভাবে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে প্রিয়া বেগম (২৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই হামলার ফলে শিক্ষিকার মাথায় একাধিক কোপ লাগে, শরীরের নানা স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় প্রিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আহত সিঁথি সীমিতা (২৮) স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন। গত তিন মাস থেকে তিনি প্রিয়া বেগমের মেয়েকে পড়াচ্ছিলেন এবং মাসে দেড় হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেতেন। পরিবারের দাবি করেছে, সম্প্রতি টিউশনির বকেয়া টাকা চাওয়ার জন্য প্রিয়া বেগম ক্ষুব্ধ হন। অন্যদিকে শিক্ষিকার স্বজনদের এক অংশের দাবি, অভিযুক্ত নারী কয়েকদিন আগে সিঁথির কাছে ২০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন এবং সেই টাকা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সিঁথি ছাত্রীর পড়ানো শেষে বাসা থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় প্রিয়া বেগম দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার বলেছেন, ‘প্রথম কোপটি মাথায় লাগার পর দরজা খুলে বের হওয়ার চেষ্টা করে সিঁথি। কিন্তু দরজায় দুটি ছিটকিনি লাগানো ছিল, তাই তিনি বের হতে পারেননি। তার গলায়, হাতে ও কানে প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ছিল। কোপানোর সময়ে প্রিয়া বলছিল, ‘আমার কাছে এক আনা স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস ক্যান?’ পরে শিক্ষিকার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারিক সদস্যরা জানান, সিঁথির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা তার মাথায় ১০টি গভীর ক্ষত শনাক্ত করেছেন, যেখানে প্রায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। মামলার বাদী শিশু মিয়া অভিযোগ করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। হামলার পেছনে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। এ বিষয়ে ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির বলেছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার পেছনে প্রকৃত কারণ টিউশনির বকেয়া, ধার-সংক্রান্ত বিরোধ নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য—সব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন