প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, ফলে দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ একটি জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। রোববার (৮ নভেম্বর) সরকার গঠনের জন্য প্রথম সুযোগ কার হাতে যাবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে তার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট—দুই নেতা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের দপ্তরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক পরামর্শ সভার পর দেখা গেছে, ১২০ আসনের নেসেটে গাদি আইজেনকোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৬ জনের সমর্থন এসেছে। যদিও নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোটের হাতে ৫৩টি আসন থাকার কথা ছিল, তথাপি অতি-গোঁড়া ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ সংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে তার দীর্ঘদিনের মিত্র ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ দল তাকে শেষ মুহূর্তে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
আইজেনকোট ৬৭ জনের সমর্থন পেলেও, তার এই জয়ের পেছনে রয়েছে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর ভোট, যারা গত অক্টোবরের নির্বাচনে রেকর্ড ১৯টি আসন জিতেছিল। তবে আইজেনকোট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি এই আরব দলগুলোকে নিজের সরকারে অংশীদার করবেন না। ইসরাইলে সরকার গঠন করতে হলে সর্বনিম্ন ৬১টি আসনের প্রয়োজন হয়। যদি আইজেনকোট ফিলিস্তিনি দলগুলোকে সরকারে না রাখেন, তাহলে তাকে অতি-গোঁড়া দলগুলোকে রাজি করিয়ে ৬১ আসনের কোটা পূরণ করতে হবে।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে বিরোধী শিবিরের কোনো দলকে নিজের পক্ষে টানতে হবে অথবা আইজেনকোটের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন করতে হবে, যা বিরোধীরা ইতিমধ্যেই নাকচ করে দিয়েছেন।
নির্বাচনে আরব দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এবং ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ বা ‘রাম’ মূলত নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে আইজেনকোটকে সমর্থন দিয়েছে। রাম দল সরকারে যোগ দিতে ইচ্ছুক হলেও জয়েন্ট লিস্ট বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেছে। তবে আইজেনকোটের শর্ত হলো—ফিলিস্তিনি দলগুলোকে সমর্থন দিতে হলে হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ফিলিস্তিনি দলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর মতো উগ্র ডানপন্থী সরকারের পতন ঘটানো এবং দেশের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বাড়িঘর ধ্বংস বন্ধ ও অপরাধ দমনের মতো মৌলিক অধিকার রক্ষা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, তিনি প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন এবং প্রয়োজন হলে তা ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। যদি নির্ধারিত ধাপগুলোতে একের পর এক মনোনীত প্রার্থী ব্যর্থ হন, তাহলে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সরকার গঠিত না হওয়া এবং নতুন নির্বাচন দেওয়াটাই নেতানিয়াহুর সবচেয়ে পছন্দের কৌশল, কারণ এতে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থান দুর্বল হতে পারে এবং তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন