প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ধর্ষণ এবং জোর করে ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ঘিরে সরকারের সদস্য এবং বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।
আজ রবিবার জাতীয় সংসদে পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ এবং শিবির নেতা জিসান মিয়াকে নিয়ে ৩০০ বিধিতে রবিবার দুটি বিবৃতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
৩০০ বিধিতে একটি বিবৃতি দেওয়ার বিধান থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুটি বিবৃতি দেওয়া এবং জিসান প্রধানের বিষয়টি বিচারাধীন অবস্থায় সংসদে তুলে ধরার কারণে বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রশ্ন তোলেন। তিনি ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ সময় সরকারি এবং বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে হইচই করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে একপর্যায়ে রুলিং দেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সদস্যরা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আশ্বস্ত করেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে আজ সংসদ অধিবেশনে পুলিশ সুপার বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার বিষয়ে দাঁড়িয়ে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বিবৃতি শেষ হওয়ার পর তিনি আরেকটি বিবৃতি দেওয়ার জন্য স্পিকারের অনুমোদন চান। স্পিকার বক্তব্য দেন, ‘যদি আরেকটা এ রকম গ্রেট নিউজ থাকে, তাহলে অফকোর্স অ্যালাউড।’
কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘একটা বিষয়ে কিছু দাবি করা হয়েছে, সে জন্য বিবৃতি দিচ্ছি।’ এরপর তিনি জিসান মিয়া প্রধানের গ্রেপ্তারের বিষয় তুলে ধরে বলেন, পাঁচ-ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমের সঙ্গে মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানের সঙ্গে পরিচয়ের সূচনা ঘটে এবং তাঁদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথোপকথন শুরু হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্যমতে, জিসান মিয়া ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। এক পর্যায়ে জিসান ভুক্তভোগীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং এ কাজ না করলে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী জিসানের দেওয়া ওষুধ খেয়ে গর্ভপাত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এক সময় জিসান ১২ জুন বিয়ে করতে সম্মতি দেন। ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিয়ে না করার অযুহাতে জিসান নিজেই আত্মগোপন করেন।
জিসান প্রধানকে গ্রেপ্তারের এবং মামলার বিবরণ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘এ বিষয়ে অনেকেই ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি অন্যভাবে বর্ণনা করে সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করছিল। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করার পরে আমরা মনে করি, এই ঘটনা জাতির সামনে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাই আমি মহান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে এটি প্রকাশ করলাম।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই হাত তোলেন বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদTaher। বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুটি বিবৃতি দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। স্পিকার উত্তর দেন, ৩০০ বিধির বিরুদ্ধে কোনো প্রশ্ন তোলা যায় না। এ সময় বিরোধী দলীয় সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। স্পিকার তখন বিরোধী দলের উপনেতাকে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানান।
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে সাবজেক্টটি চিহ্নিত করেছেন, আপনার এটি অনুমোদন করা উচিত হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরবর্তী পর্যায়ে কোনো দলকে লক্ষ্য করে বিতর্কিত বিষয় নিয়ে এভাবে সংসদে মন্তব্য করা বাংলাদেশের পার্লামেন্ট ইতিহাসে মনে হচ্ছে এই প্রথম।’
তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি দলকে কনডেম করার উদ্দেশ্যে এই বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। আমি জানতে চাচ্ছি, জিসান বর্তমানে কোথায় আছে? কুমিল্লার পুলিশ জিসানের সঙ্গে কারও কথা বলতে দিচ্ছে না, এমনকি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলতে দিতে নিষেধ করছে। যে মেয়েটির সম্পর্কে বলা হয়েছে, তাঁর সঙ্গেও কাউকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে এটি সংসদে কেন? কোনো প্লট তৈরি হচ্ছে কি? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য মনে হচ্ছে, তারা একটি প্লট তৈরি করার জন্য পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমন্বয়ে আলোচনা করছে।’
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানালেও এ সময় সরকারি এবং বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে কথা বলতে থাকেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে চান। এ পর্যায়ে স্পিকার বলেন, ‘এটা আমাদের দেশের সর্বোচ্চ জায়গা। আমরা সবাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেব। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব, যদি সংসদীয় রীতিনীতির বাইরে কিছু হয়ে থাকে, এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বক্তৃতা উচিত নয়, দয়া করে বসুন। আমরা দিনের কার্যক্রমে যাচ্ছি।’ পরে দিনের কার্যক্রম অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সম্পর্কে আলোচনা শুরু হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন