প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমেরিকাতে বার্ষিক কর্মসংস্থান ভিত্তিক ভিসার সীমা এবং কঠোর দেশভিত্তিক কোটা ব্যবস্থার কারণে ভারতীয় পেশাজীবীরা মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় যেকোনো দেশের নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ বিলম্বের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির (এনএফএপি)-এর সাম্প্রতিক এক মূল্যায়ন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, কর্মসংস্থান-ভিত্তিক অভিবাসনের জট ১২ লাখেরও বেশি আবেদনকারী ছাড়িয়ে গেছে।
প্রায় ১০ লাখ উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন ভারতীয় পেশাজীবীকে আমেরিকার কর্মসংস্থান-ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে গিয়ে আনুমানিক ১শ’ ৭৯ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। এর ফলে, ভারতীয় কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা কর্মসংস্থানভিত্তিক মোট অপেক্ষমাণ তালিকার ৭৯ শতাংশ গঠন করছেন।
এনএফএপি-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চীন এবং ফিলিপাইনসহ অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় জাতীয়তার কোটা কীভাবে ভারতীয় আবেদনকারীদের ওপর অনেক বেশি বোঝা চাপিয়ে দেয়। ইবি-১ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে, চীনা নাগরিকদের আনুমানিক চার থেকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়, যা ভারতীয়দের মতোই। চীনা ইবি-২ উচ্চ-ডিগ্রিধারী পেশাদারদের আনুমানিক ২৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে, যেখানে ইবি-৩ দক্ষ কর্মীদের জন্য প্রায় সাত বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “২০২৬ সালের জানুয়ারি বা তার পরে দাখিল করা লেবার সার্টিফিকেশন আবেদন বা কর্মসংস্থান-ভিত্তিক অভিবাসী পিটিশনসহ ভারতের একজন উচ্চদক্ষ বিদেশি নাগরিকের গ্রিন কার্ড (স্থায়ী বাসস্থান) পাওয়ার জন্য কর্মসংস্থান-ভিত্তিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার (ইবি-২)-এ ১৭৯ বছর, কর্মসংস্থান-ভিত্তিক তৃতীয় অগ্রাধিকার (ইবি-৩)-এ ৩৮ বছর এবং কর্মসংস্থান-ভিত্তিক প্রথম অগ্রাধিকার (ইবি-১)-এ ৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।”
আমেরিকার এই চলমান জটের পেছনে দুটি প্রধান আইনগত বাধা চিহ্নিত করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। প্রথমটি হলো ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস নির্ধারিত বার্ষিক ১ লাখ ৪০ হাজারের সীমা। এই জাতীয় আইনি সীমার আওতায় প্রতি অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড দেওয়া হয়। এই সংখ্যার মধ্যে মূল কর্মী এবং তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য উভয়েই অন্তর্ভুক্ত থাকেন, ফলে করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতার চাহিদা সামাল দেওয়ার জন্য এই বরাদ্দ যথেষ্ট নয়।
দ্বিতীয় বাধাটি হলো দেশভিত্তিক সীমা, যার অধীনে জনসংখ্যার আকার বিবেচনা না করে প্রতিটি দেশকে একই শতাংশ হারে সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে ভারত ও চীনের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশও লুক্সেমবার্গ ও আইসল্যান্ডের মতো ছোট দেশগুলোর সমান সংখ্যক স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন