প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত তানোর উপজেলায় শুরু হয়েছে কৃষকদের স্বপ্নের সোনালী ফসল রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কার্যক্রম। এবারের ফলন একেক বিঘা জমিতে কাচিতে ৩৩ থেকে ৩৫ মন এবং পাকিতে ১৮ থেকে ২০ মন হচ্ছে। পাখির ডাকের সঙ্গে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন মাঠে চলছে রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে যেন দম ফেলার সময় নেই।
একদিকে আমন ধান কাটা চলছে, অন্যদিকে সেই জমিতে আলু রোপণের জন্য হাল চাষের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফলে আমন ধান কাটার পাশাপাশি আলু রোপণের প্রস্তুতির জন্য কাজ করতে পেয়ে শ্রমিকরা ব্যাপক খুশি।
জানা গেছে, অন্যবছরের তুলনায় এবছর রোপা আমন রোপণের শুরু থেকে কৃষকদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আমন চাষের ভরা মৌসুম আষাঢ় মাসে তেমন বৃষ্টির দেখা ছিল না। এর ফলে অনেক কৃষক সঠিক সময়ে আমন ধান রোপণ করতে পারেননি। তবে অসময়ে হলেও আমন ধান চাষে বাদ পড়েননি কোনো কৃষক।
যারা আমনের শুরুতে ডিপ মটারের পানি কিনে আমন ধান রোপণ করেছিলেন, তাদের জমির ধান কাটা এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন তারা সেই জমিতে আলু রোপণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার ৪৩৫ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ২১ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ।
কামারগাঁ ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, এবারের আমন চাষে কৃষকদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আমন চাষের শুরু থেকেই পানির সমস্যা ছিল, তার সাথে পটাশ সারের সংকটও ছিল তীব্র। অনেক কৃষক পটাশ সার ছাড়াই আমন ধান চাষ করেছেন। তবুও আল্লাহর রহমতে ভালো ফলন হয়েছে। ছাঐড় গ্রামের কৃষক আব্দুল বলেন, "কৃষক যে পরিমাণ কষ্ট করে আমন ধান চাষ করেন কিন্তু ধানের দাম না থাকায় কষ্টের দামি উঠে না। সবকিছু দাম বাড়তি অথচ কয়েক বছর ধরে ধানের দামে ধস নেমে আছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষক ধান চাষ করাই ছেড়ে দিবে।" কৃষকের পাশে থাকার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ জানান, রোপা আমনের এই একটি আবাদ কৃষকরা অল্প খরচে বেশি লাভবান হয়ে থাকেন। যদি কোনো দুর্যোগ বালাই না হয়, তাহলে আমনের ফলনও খুব ভালো হয়। কৃষকের আমন ধান চাষে রোগ বালাই না হওয়ার জন্য প্রথম থেকে প্রতিনিয়ত কৃষি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে থেকে তদারকি করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন