প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদকের একটি বড় চালান জব্দ করার পর ১০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে তা ধামাচাপা দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। প্রত্যাহার হওয়া চার কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন, উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন, এসআই রিমন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হাকিম এবং এএসআই লুৎফর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতীবান্ধা উপজেলার বোর্ডের হাট বাজার এলাকায় এক চিহ্নিত মাদক কারবারির বাসায় ওই চার কর্মকর্তা যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
তবে তারা জব্দকৃত আলামত ও আসামিকে থানায় না নিয়ে, স্থান পরিবর্তন করে ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নিয়ে যান। সেখানে দরকষাকষির একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে মাদকের চালানসহ আসামিকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে পুলিশ কর্মকর্তাদের এই বৈঠকের দৃশ্য দেখতে পাওয়ার পর পুরো উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ চার কর্মকর্তার দল গত ১৮ জুলাই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে একইভাবে অপর একটি বিতর্কিত অভিযানে গিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীর তোপের মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এই পরপর দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে চার কর্মকর্তাকে হাতীবান্ধা থানার কর্মরত অবস্থান থেকে প্রত্যাহার করে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া ঘটনাটির বিস্তারিত অনুসন্ধানে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, ‘চার পুলিশ কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে, এটা সত্য। জেলা পুলিশের গঠন করা তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সত্যতা মিললে কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন