প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর কথা ঘোষণা করেছে। সোমবার (১৫ জুন) ভোরে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ঘোষণার পর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিশ্চিত করেছে তারা চুক্তিতে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি বার্তায় উল্লেখ করেছেন, দুই পক্ষ সামরিক অভিযান সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকে সম্মতি হওয়ার পর মধ্যস্থতাকারীরা এ সপ্তাহে কয়েকটি প্রাক-বাস্তবায়ন বৈঠকের আয়োজন করবেন। এসব বৈঠকে চুক্তি বাস্তবায়নের কারিগরি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
শেহবাজ শরিফ জানান, শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। আলোচনায় সহায়তার জন্য কাতারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
ওয়াশিংটন এবং তেহরান শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়ার পর বিশ্বজুড়ে বহু দেশ এবং সম্প্রদায় তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইছি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি সমঝোতা স্মারকটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে জানান, এই চুক্তি সম্ভবত আরও বিস্তৃত অগ্রগতির পথ খুলে দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নতুন গতি দিতে এবং মধ্যপ্রাচ্যকে আরও নিরাপদ অঞ্চলে পরিণত করার পথ প্রশস্ত করতে পারে।’
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা সব পক্ষকে ইতিবাচক এই গতি ধরে রাখার আহ্বান জানাই। পরিস্থিতি এখনও নাজুক হলেও, চুক্তিটি কয়েক দশকের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গঠনমূলক পদক্ষেপ।’
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, ‘আমি আশা করি, দীর্ঘদিন ধরে যার প্রয়োজন ছিল পুরো বিশ্বের, সেই এই খবর আমাদের অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে।’ তিনি চুক্তি স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত সব পক্ষকে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন বক্তব্য, উসকানি ও কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এরদোয়ান বলেন, এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রয়োজন ছিল এবং আঙ্কারা এ ধরনের উদ্যোগে সমর্থন অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। মহাসচিবের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে—এই ঘোষণা আমরা স্বাগত জানাই। এটি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানান, তিনি আশা করেন এই চুক্তি ‘টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। তিনি জানান, ‘কিছুটা সময় লাগলেও এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ পুনরায় সচল করা জ্বালানির দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ কমানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি।’
জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ে স্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে তারা তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত। এক যৌথ বিবৃতিতে চার দেশের নেতারা বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।’ দুই পক্ষের ওপর চাপ অব্যাহত থাকে বলে উল্লেখ করেছে। এছাড়া বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন