প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট (ব্ল্যাকআউট) দেখা দিয়েছে সোমবার (৬ জুলাই)। বৈদ্যুতিক গ্রিড সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার ফলে দেশটির প্রায় ১ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানা গেছে যে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ কবে পর্যন্ত ঠিক হবে, তা নিশ্চিত করা যায়নি। কিউবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কম্পানি 'ইলেকট্রিক ইউনিয়ন' জানিয়েছে, গ্রিড ভেঙে পড়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, দেশটির জ্বালানি ও খনি মন্ত্রণালয় বলেছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার জন্য বিশেষ প্রোটোকল চালু করা হয়েছে। মূলত, গত জানুয়ারি মাস থেকেই কিউবায় জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাতে তেল সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর থেকে এই সংকট আরও বাড়ে। এর ফলে, দেশের বাইরে থেকে তেল আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। টানা বিদ্যুৎ না থাকার কারণে কিউবার সাধারণ জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। গণপরিবহন চলাচল প্রায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালগুলোতে জরুরি অস্ত্রোপচার হাজার হাজার বাতিল করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় পানি এবং গ্যাসের সরবরাহও বিঘ্নিত হয়েছে। হাভানার ৩৬ বছর বয়সী বাসিন্দা লিনা মে বলেন, ‘বাবাকে বলেছি এখন কাঠকয়লা কিনতে হবে, নাহলে আমরা না খেয়েই মারা যাব।’ আরেক বাসিন্দা মারিও পেদ্রোসো হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে দেশে তেল আসছে না। কষ্ট সহ্য করা ছাড়া এখন আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’ কিউবা তাদের চাহিদার ৪০ শতাংশ জ্বালানি নিজে উৎপাদন করতে পারে। বাকিটা আমদানির ওপর নির্ভরশীল। গত মার্চ মাসের শেষে রাশিয়া থেকে ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল এলেও এপ্রিলের শেষে তা ফুরিয়ে যায়। জ্বালানি বাঁচাতে, সরকার প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখছিল, যা অনেক সময় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্তও চলে গিয়েছে। এর আগে, মার্চ ও মে মাসেও কিউবায় এমন বড় ধরনের ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন