প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন, তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ও ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামের মধ্যে বিরোধের প্রেক্ষিতে আপাতত একটি অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
কমিশন জানায়, দলের ওপর কার অধিকার থাকবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে তৃণমূলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত উভয় পক্ষকে আলাদা নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে হবে।
বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এই প্রতীক ব্যবহার করতে পারছে না। এই সিদ্ধান্তের পর বিরোধীরা নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন, “একটি পুরো দলকেই যদি ‘চুরি’ করা যায়, তাহলে কোটি কোটি মানুষের ভোট নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।” আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও এ বিষয়ে কটাক্ষ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মমতার কাছ থেকে জোড়াফুল প্রতীক কেড়ে নেওয়া যেন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের উপহার।’ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করে দেয়। এর ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের অন্য প্রতীক নিয়ে লড়তে হবে।
কমিশন জানায়, ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ প্রতীক কোন পক্ষই ব্যবহার করতে পারবে না। উপনির্বাচনে প্রার্থীদের বিকল্প নাম ও প্রতীক গ্রহণ করতে হবে।
ভারতের রাজনীতিতে এমন ঘটনা পূর্বে ঘটেছে। শিবসেনা ও এনসিপির মধ্যে দলীয় বিরোধের পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিদ্রোহী পক্ষ বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেয় এবং মূল দলীয় প্রতীক তাদের হাতে চলে যায়।
শুক্রবার এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে রাহুল গান্ধী তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির সমালোচনা করেন।
রাহুলের অভিযোগ, শিবসেনা ও এনসিপির পর এবার তৃণমূলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তিনি দাবি করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলে দল ভেঙে দিচ্ছে এবং দলীয় প্রতীক কেড়ে নিচ্ছে।
রাহুল আরও বলেন, একটি দলই যদি এভাবে ‘চুরি’ হয়ে যায়, তাহলে কোটি কোটি মানুষের ভোট নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তার মতে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব জনগণের মতামত রক্ষা করা এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
রাহুল বলেন, ‘এই লড়াই শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাওয়া সব রাজনৈতিক দলেরই বিষয়।’ আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এভাবে কি বিজেপি নির্বাচনে জয় পেতে চায়? এদিকে, তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাত ১১টার দিকে রাহুল গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন বলে জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন