প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় কাতার প্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুন (৩০) কে হত্যার অভিযোগে মিলন শেখ (২৭) নামে এক আসামীর বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত। মিলন শেখ পাংশা উপজেলার মুচিদহ খামারডাঙ্গী গ্রামের খলিল শেখের পুত্র। নিহত রুনা খাতুন পাংশা উপজেলার মুচিদহ খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতার প্রবাসী আনিসুর রহমানের স্ত্রী।
বুধবার দুপুরে রাজবাড়ী বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন এ রায় প্রদান করেন। মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১০ টার দিকে রুনা খাতুন তার স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড় টার দিকে ছেলে হুসাইনের কান্নার শব্দে মেয়ে সিনহার ঘুম ভেঙে যায়।
মিলনকে বসত ঘরের বিদ্যুতের আলোতে দেখে চিনতে পেরে সিনহা তাকে জিজ্ঞাসা করে, "আমার মা কোথায়?" তখন মিলন জানায়, "তোমার আম্মু আমাদের বাড়ীতে গেছে।" সিনহা তার ছোট ভাইয়ের কান্না থামানোর চেষ্টা করে, কিন্তু ভাইয়ের কান্না বাড়তে থাকলে সে তাকে কোলে নিয়ে মাকে ডাকতে বারান্দায় আসে। মিলন সিনহার মুখ চেপে ধরে এবং বলে, "চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলবো।"
সিনহা তার মুখ থেকে মিলনের হাত সরানোর চেষ্টা করলে মিলন ও অজ্ঞাতনামা আরও দুইজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। সিনহা কান্না করতে করতে উঠানের উপর গিয়ে দেখে তার মাকে মাটিতে দুই পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে। চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে রুনা খাতুনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। আসামী মিলনসহ তার স্ত্রী রুনার বাড়ীতে বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে গৃহস্থলী কাজ করতো।
ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে রুনা খাতুনকে বসত বাড়ীর উঠানের উপর মাটিতে ফেলে দুই পা দড়ি দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার ব্যবহৃত একটি রেডমি এনড্রয়েড মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পাংশা থানায় সংবাদ দিলে থানা পুলিশ বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে রুনা খাতুনের মৃত দেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট রুনা খাতুনের বড় ভাই মোঃ রায়হান বিশ^াস বাদী হয়ে মিলনসহ অজ্ঞাতনামা দুইজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী রায়হান বিশ^াস বলেন, "আমি আমার ছোট বোনের হত্যাকারীর যাবজ্জীবন কারাদন্ডের এ রায়ে সন্তুষ্ট। অন্যান্য আসামীর সঠিক বিচার আশা করছি।"
আসামী মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন বলেন, "আমি এখন দুই সন্তান নিয়ে কোথায় যাবো, কি খাবো। ন্যায় বিচার পেলাম না, আমার স্বামী নির্দোষ। আমি আপীল করবো।"
আসামীপক্ষের আইনজীবী এ্যাড. মোঃ নাজমুল হাসান বলেন, "আসামী ন্যায় বিচার পায়নি। আমরা উচ্চ আদালতে আপীল করবো।"
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী কৌশলী এ্যাড. আইয়ুব আলী খান বলেন, "এ মামলায় তিন আসামীর মধ্যে একজনের রায় আজ হলো। দুইজনের বিচার শিশু আদালতে হচ্ছে। আজকের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ন্যায় বিচার পেয়েছে বাদী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন