প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালী পৌর শহরের বিটাইপ সড়কে প্রবল বাতাস এবং কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে একটি বিশাল চাম্বল গাছ শিকড়সহ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটির ওপর। এর ফলে প্রায় তিন হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে সড়কে গাছটি পড়ে যাওয়ায় যান চলাচলও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। গাছটি পার্শ্ববর্তী সরকারি আবাসিক এলাকার একটি বাউন্ডারি ওয়ালের ক্ষতিও করেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে এ ঘটনার ফলে স্থানীয় বাসিন্দা এবং সড়ক ব্যবহারকারীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। গাছটি বিদ্যুতের খুঁটির ওপর আছড়ে পড়ার কারণে খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ৩৩ কেভি লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং জৈনকাঠী ফিডারের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি বিটাইপ সড়কের ওপর গাছ পড়ে থাকায় উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটি কেটে অপসারণ করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পরে, ওজোপাডিকোর প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি অপসারণ করে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জৈনকাঠী ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করেন। এর ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়ে যায়।
ওজোপাডিকোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম খান জানান, চাম্বল গাছের উপড়ে পড়ার কারণে বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় তিন হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের গাছ অপসারণের পর বিকল্প পদ্ধতিতে জৈনকাঠী ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও লাইনের স্থায়ী মেরামতের কাজও চলছে।
পটুয়াখালী সদর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ রাজীব বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটি অপসারণ করে। ফলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা নিরাপদে মেরামতের কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন।
এদিকে, এই ঘটনার ফলে আবারও উপকূলীয় অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ চাম্বল গাছ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ অল্প বাতাস অথবা মাঝারি ধরনের ঝড়েই চাম্বল গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ে অথবা পুরো গাছ উপড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিশেষভাবে, টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে গেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। যার ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, সড়ক, বসতবাড়ি ও জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।
পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেছেন, উপকূলে ঝড়, দমকা হাওয়া অথবা ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে চাম্বল গাছ। বছরের পর বছর ধরে আমরা জনবসতির আশপাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ চাম্বল গাছ অপসারণ, নতুন করে চারা উৎপাদন ও রোপণ বন্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি করে আসছি। তিনি আরও বলেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নাইমা আক্তার এবং মাসুদুর রহমান জানান, একটি গাছ উপড়ে পড়ার ফলে একসঙ্গে বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগ এবং সরকারি স্থাপনার ক্ষতি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়। তারা শহর ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ চাম্বল গাছ দ্রুত চিহ্নিত করে অপসারণ এবং বিকল্প নিরাপদ প্রজাতির গাছ রোপণের দাবি করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন