প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাত্র ১১ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের দুই জেলায় বড় ধরনের দুটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে গেল। কক্সবাজারে সকাল ৬টার দিকে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিকেলে নেত্রকোণায় পিকআপ ভ্যান ও ট্রাকের সংঘর্ষে আরও চারজন নিহত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নারান্দিয়া এলাকায় এই শেষ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে দুর্ঘটনায় নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। নিহত চারজনের মধ্যে একজন নারী এবং তিনজন পুরুষ। দুর্ঘটনার পর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম দুর্ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পিকআপ ভ্যানে চালকসহ মোট আটজন ছিলেন। ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনার দিকে আসার পথে নারান্দিয়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা সারবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে পিকআপ ভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে যায়।
সংঘর্ষের ফলে পিকআপ ভ্যানে থাকা দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁদের মধ্যে একজন নারী ছিলেন। স্থানীয় লোকজন আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও দুজন মারা যান। পরে গুরুতর আহত একজনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার প্রথম আলোকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় দুজন ঘটনাস্থলে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজন—মোট চারজন মারা গেছেন। গুরুতর আহত চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
এর আগে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা লেগুনার সংঘর্ষ ঘটে, যেখানে চারজন প্রাণ হারায় এবং ৫ জন আহত হন। হতাহতরা সবাই লেগুনার যাত্রী ছিলেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেগুন বাগিচা গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসীম উদ্দিন (২৫), খুটাখালীর ফুলছড়িস্থ শিয়া পাড়ার মৃত মনজুর আলমের ছেলে মোহাম্মদ শাহেদ (২৭), খুটাখালীর নতুন অফিস এলাকার আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫) এবং পার্শ্ববর্তী ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজারিয়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রফিক (২৮)।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, খুটাখালী নতুন অফিস মাদরাসা পাড়ার আবদুল সামাদের ছেলে জিয়াবুল হক (৪০), খুটাখালীর মেদাকচ্ছপিয়া গ্রামের বদরুদ্দোজার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৫), ঈদগাঁও উপজেলার নাপিতখালী এলাকার আলী মিয়ার ছেলে সৈয়দ আলম (৫০) এবং তার ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার (১৯) ও কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার কিরনতলী গ্রামের রহমত করিমের ছেলে সৈয়দ করিম (৩০)।
ডুলাহাজারার মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘লাল সবুজ পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী এসি বাস চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে পৌঁছায়। তখন বিপরীত দিক থেকে ঈদগাঁও থেকে চকরিয়ামুখী একটি যাত্রীবাহী লেগুনার (অথবা স্থানীয় ভাষায় জিটু গাড়ি) সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের কারণে লেগুনাটির ছাদ পর্যন্ত উপড়ে যায় এবং গাড়িতে থাকা নয়জন যাত্রীর সবাই গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয় জনতার সহায়তায় মালুমঘাট হাইওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে।
আহতদের প্রথমে কাছের মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দুপুর একটার দিকে একে একে আরও তিনজনের মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত বাকি ৫ জন বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার এসআই মো. শামছুজ্জামান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় লেগুনার ৯ যাত্রীর মধ্যে চারজন মারা যান এবং আহত হন আরও পাঁচজন যাত্রী। তারা বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ভোরে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হওয়ার সময় সংঘটিত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ক্রেন দিয়ে মহাসড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সরিয়ে নেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন