প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। যদি নতুন এই পরিবর্তন কার্যকর হয়, তাহলে চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ বাতিলের বিষয়টি মার্কিন প্রশাসন বিবেচনা করছে।
এর আগে হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলদের চাকরি হারানোর পর নতুন কাজ খুঁজে নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় দেওয়ার বিধান বাতিলের কথা ভাবছে। কিন্তু এটি এখনো কোনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি এবং প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। যদি এ ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলদের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। মূলত, নিয়মটি চূড়ান্ত হলে চাকরি হারানোর পর ওই চাকরির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকা কর্মীরা আর ৬০ দিনের অতিরিক্ত সময় পাবেন না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয় প্রবাসীদের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘসময় ধরে চালু থাকা দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি কর্মসূচির সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী হচ্ছেন ভারতীয়রা।
যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি আবেদনের ৭১ শতাংশ সুবিধাভোগী ছিলেন ভারতে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারির তথ্যে জানা যায়, দেশটিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা ৫২ লাখের বেশি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ দিনের নিয়মটি ২০১৭ সালে চালু করা হয়েছিল। চাকরি হারানো উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য বাড়তি সুযোগ দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসননির্ভর কর্মীরা চাকরি হারালে সর্বোচ্চ টানা ৬০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। তবে যদি তাদের সার্টিফায়েড অবস্থানের মেয়াদ আগে শেষ হয়ে যায়, তাহলে সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা যাবে না।
এই সুবিধা ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টিএনসহ বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাদের নির্ভরশীলরাও এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন। এই ৬০ দিন কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে তারা নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজতে পারেন, নতুন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন অথবা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার অন্য কোনও পথ বিবেচনা করতে পারেন।
প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার পরে কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই অন্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়ার বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ হারাতে পারেন। তবে ইউএসসিআইএস সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে হস্তক্ষেপ করতে পারে। শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীরাই নয়, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টিএনসহ অন্যান্য ভিসাধারীদের ওপরও পড়বে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন