প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ মন্তব্য করেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব দেশটিকে ‘পারমাণবিক অস্ত্রের’ সমতুল্য ক্ষমতা প্রদান করে। তিনি উল্লেখ করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল সীমিত করার ক্ষমতা তেহরানের জন্য একটি বিশাল কৌশলগত বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি ইরান সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মেদভেদেভ এই উল্লেখ করেছেন।
মেদভেদেভ আরও সতর্ক করে দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে যদি বৃহত্তর সংঘাত তৈরি হয়, তবে ইরান বাব এল-মানদেব প্রণালী দিয়েও নৌচলাচল বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি যোগ করেন, ‘আমি আশা করি পরিস্থিতি এতটা খারাপ হবে না, তবে এই অঞ্চলের সংঘাতকামী সব দেশেরই ইরানের এই ক্ষমতার কথা মনে রাখা উচিত।’
ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রতি তীব্র সমালোচনা করে মেদভেদেভ একে ‘সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালীন সময়ে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি ছিল না। এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী তীব্র যুদ্ধ চলে। অবশেষে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় একটি মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়।
খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত হিসেবে শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরান সফর করেন মেদভেদেভ। সেখানে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং মস্কোর পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান। এই বৈঠকে তিনি পশ্চিমাদের ‘অবৈধ’ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে লড়াই করতে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম বা সংস্থা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেন। কয়েক বছর আগে তেহরানের পক্ষ থেকে প্রথম এই প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংঘাতের চেয়ে আলোচনা ভালো, তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও ইরানের পুনর্গঠনে অর্থায়নের জটিল বিষয়গুলি সত্ত্বেও একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন