প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে কওমি অঙ্গনভিত্তিক সাতটি ইসলামি দলকে নিয়ে শুরু হওয়া নতুন ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রেক্ষিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এই দুই প্রধান শরিক দলের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। ঐক্যের প্রকৃতি রাজনৈতিক হবে কি না, কিংবা এটি কেবল ইস্যুভিত্তিক থাকবে এবং দলগুলো অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে কি না—এই বিষয়ে উভয় দলের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ঐক্যের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য পূর্ণাঙ্গ অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সাতটি দল একত্রিত হলেও যদি তাদের মধ্যে কেউ বিএনপি কিংবা জামায়াতের দিকে নজর দেয়, তাহলে এই ধরনের ঐক্যের রাজনৈতিক সুফল আসবে না। তাঁর মতে, “এতে ঐক্য হয়ে কোনো লাভ নেই এবং তা কোনো ফলপ্রসূ ফলাফল বয়ে আনবে না। একটি শক্তিশালী বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে হলে এই সমঝোতায় থাকা দলগুলোর অন্য কোনো রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকা চলবে না।”
অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দীন আহমদ ঐক্যের ক্ষেত্র ও দলীয় স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন প্রক্রিয়া তুলে ধরেছেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন যে, ধর্মীয় ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে এই দলগুলো একত্রিত হয়ে আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে পারে।
তবে রাজনৈতিক সমীকরণের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, “রাজনৈতিক কোনো জোট, মোর্চা কিংবা নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে প্রতিটি দলের আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার থাকতে হবে।” তাঁর মতে, নির্বাচন ও দলীয় রাজনীতির বিষয়টি স্ব স্ব দলের নিজস্ব নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে ইসলামি দলগুলোর বৃহত্তর এই সমন্বিত অবস্থান গড়ে তোলা সম্ভব।
কওমি ঘরানার এই উদ্যোগ নিয়ে দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করে যে, হেফাজতের ব্যানারে সাত দলীয় এই ঐক্য চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পূর্বে রাজনৈতিক স্বকীয়তা ও নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণই এখন সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন