প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের সালথায়, ৯ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে, শওকত মিয়া (৩৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সঙ্গে, তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে, ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবুল বাসার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণের সময়, আসামি উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায় যে, ২০২০ সালের ২২ মে বিকেলে, সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৯ বছরের ওই শিশুটি বাড়ির পাশে নিজেদের শাক-সবজির (ডাটা) ক্ষেত দেখতে গিয়েছিল। এই সময়, আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী শওকত শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি নির্জন পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটি সৃষ্টি হওয়া রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে এবং দ্রুত ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ (ওসিএসি)-এ ভর্তি করে। ঘটনার পরের দিন, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শওকতকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে, ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সালথা থানা পুলিশ আসামি শওকত মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে, দীর্ঘ ৬ বছর পর আদালত আজ বৃহস্পতিবার এই রায় প্রদান করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট অর্চনা দাস বলেন, ‘একটি অবুঝ শিশুকে নির্যাতন করে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে তার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই শাস্তি সমাজে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন