প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। নির্দেশ পাওয়ার ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে এই হামলা শুরু হতে পারে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য এই বড় আক্রমণের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সামরিক সদস্য ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। পূর্বে ইরানি রাডার বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক কেন্দ্র লক্ষ্য করে সীমিত হামলা চালানো হয়েছিল, তবে এবারের সম্ভাব্য অভিযান তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত হবে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও পেন্টাগন ইতিমধ্যে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর তালিকা চূড়ান্ত করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ট্রাম্প মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই এই হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দিতে পারেন। এক জ্যেষ্ঠ পেন্টাগন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, "পেন্টাগন একটি পরিকল্পনা সংস্থা। প্রেসিডেন্টের আদেশ অনুযায়ী সামরিক বিকল্প তৈরি এবং তা বাস্তবায়ন করাই আমাদের কাজ।"
মার্কিন গোয়েন্দা পর্যালোচনায় সতর্ক করা হয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল যদি যৌথ হামলা চালায়, তবে ইরান ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও জনবলের ওপর তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা চালাবে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, মার্কিন নাগরিকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে উন্নত ধাপে রয়েছে।
এই সম্ভাব্য হুমকির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস থেকে কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলে জরুরি নয় এমন অতিরিক্ত সামরিক সদস্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
আমেরিকান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ খনিজ তেল পাম্পিং স্টেশন ও রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, তারা রাজধানী সানা থেকে রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই ধ্বংস করেছে। যুদ্ধের কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন করে আক্রমণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও ট্রাম্প তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছেন।
নেতানিয়াহু ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ), গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদসহ সব সংস্থাকে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তবে ইরানি পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন হওয়ায় ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ সামরিক পদক্ষেপে সম্মতি দিয়েছে।
মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেত মিললে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি নতুন যুদ্ধের সূচনা হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন