প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বন্ধুর জন্মদিন উদযাপনের পর বাসায় ফেরার পথে দুই তরুণীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছয় যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছানোর জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- রাহুল (২৩), ডায়মন্ড (২০), আফসার উদ্দিন অনিম (২২), পারভেজ হক পলাশ (২৫), মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন (২১) এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু (২৪)। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম (জর্জ) জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের একজন রাহুল পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর সেখানে উপস্থিত পাঁচ আসামিকে সাজা পরোয়ানা জারি করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে দুই তরুণী ও তাদের কয়েকজন বন্ধু এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করতে বের হন। রাত পৌনে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের পানকৌড়ি রেস্টুরেন্টে খাবার শেষে তারা শুভাঢ্যা এলাকায় বাসায় ফেরার জন্য অটোরিকশার অপেক্ষায় ছিলেন।
এসময় অভিযুক্তরা একটি অটোমিশুক নিয়ে এসে তাদের পথরোধ করে। দুই তরুণীর বন্ধুদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পর তরুণীদের রতনের খামার এলাকার একটি নির্জন মাঠে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনাকালীন আসামিরা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে এবং ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়। পরে দুই তরুণীর বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। ঘটনার চার দিন পর, ২৯ জুন, এক ভুক্তভোগীর বাবা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত চলাকালে র্যাব মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে এক ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়, এবং তদন্তে ওই ফোনে দুই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
তদন্ত শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই শরজিৎ কুমার ঘোষ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। বিচার চলাকালীন ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের পরে আদালত ছয় আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের রায় প্রদান করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন