প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কোমরে চোট পেয়ে পড়ার কারণে ইন্দ্রাণী হালদার ‘ঘরে ঘরে জ়ি বাংলা’ অনুষ্ঠানটি থেকে সরে আসার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। এই কোমরের চোটের ফলস্বরূপ পুরোপুরি গৃহবন্দি হয়ে পড়ে ছিলেন অভিনেত্রী।
অভিনেত্রীদের মাঝে একটি ধারনা রয়েছে যে তাঁদের ছিপছিপে চেহারা থাকা উচিত এবং এই ধারণা এখনও পর্যন্ত খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। ‘শ্রীময়ী’ ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পরে ইন্দ্রাণী নিজেকে অনেকটাই সকলের চোখের আড়ালে রেখেছিলেন। উপরে যেটুকু দেখাচ্ছিল, তার সঙ্গে যুক্ত ছিল যে তাঁর ওজন বেড়ে গিয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। তবে তিনি জানতে চান কিভাবে তিনি আবার তাঁর পুরনো ছন্দে ফিরে আসতে প্রস্তুত হলেন।
কোমরে চোট পান বলে ‘ঘরে ঘরে জ়ি বাংলা’ অনুষ্ঠানটি থেকে সরে আসা তাঁর জন্য অভিষেক করেছিল। এই কোমরের চোটের কারণে তিনি পুরোপুরি গৃহবন্দি হয়ে ছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে প্রতিদিনের জিম, ব্যায়াম কিছুই করতে পারছিলেন না।
ইন্দ্রাণী জানিয়েছেন, “কোমরে চোটের জন্য স্টেরয়েড ওষুধ খেতে হয়েছিল। আর নিয়মিত শারীরচর্চা যে সকলের অভ্যাস, সেগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ডায়েট করলেও কোন লাভ হয় না।” কিন্তু কেবল কোমরের চোট নয়, পরে তার লিগামেন্টও ছিঁড়ে যায়। এর মধ্যে তাঁর ওজন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। প্রায় দু’বছর ধরে শারীরচর্চা থেকে দূরে ছিলেন। তিনি জানালেন, তাঁর ওজন বেড়ে ৭৫ কেজিতে পৌঁছে গিয়েছিল। মাঝে মাঝে তিনি জিমে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। কিন্তু তাতেও অনুভব করতেন কষ্ট।
ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণে নেতিবাচক মন্তব্য সহ্য করতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তিনি আবার পুরোদমে কাজ শুরু করতে চেয়েছেন। ইন্দ্রাণী জানান, “আমি মাঝে অল্পস্বল্প জিমে গিয়েছিলাম বলে দু’-চার কেজি ওজন কমিয়েছি। কিন্তু আমি বুঝতে পেরেছিলাম, এভাবে আর হবে না। কারণ তখনি প্রায় ২০ কেজি ওজন বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময় আমি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সঠিক ডায়েটের পরামর্শ নিই। কার্বোহাইড্রেট ছাড়া প্রোটিনযুক্ত খাবার দিয়ে আমার জন্য একটি ডায়েট চার্ট তৈরি করেছিলেন তিনি।”
মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ইন্দ্রাণী ২২ কেজি ওজন ঝরিয়েছেন। এই কিছু বছরে তাঁর চেহারার পরিবর্তন নিয়ে নানারকম আলোচনা শুনতে হয়েছে তাঁকে। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, “মানুষ তো অপমান করতে ছাড়েন না। আমাকে নেতিবাচক মন্তব্য সহ্য করতে হয়েছে। পুজোর উদ্বোধন করতে গিয়ে খারাপ মন্তব্য শুনতে হয়েছে। মোটা হয়ে গিয়েছিলাম বলেই জামাকাপড়ও পরিবর্তন করতে হয়েছিল। আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছিলাম। নিজেকে দেখতে ভাল লাগত না।”
তবে সেই সময়ে কাজের সুযোগ এসেছিল, কিন্তু চেহারার পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজে কাজ করতে চাননি। অভিনেত্রীর মতে, দর্শক তাঁকে ওই পর্যায়ে দেখতে অভ্যস্ত নয়, তাই তিনি ক্যামেরার সামনে আসতে চাননি। তবে এখন, তিনি কাজে আবার নতুনভাবে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুত। ইন্দ্রাণী জানিয়েছেন, কোনও রিয়্যালিটি শো উপস্থাপনা করতে কিংবা ভালো ছবি ও সিরিজ়ে অভিনয় করার জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। শীঘ্রই তিনি ক্যামেরার সামনে ফিরে আসতে চান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন