প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দীর্ঘদিন ধরে "পুতিনের গোপন তহবিল" (Slush Fund) নামে পরিচিত রাশিয়ার ফ্ল্যাগশিপ সরকারি বিনিয়োগ তহবিলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র এবং আলোচনার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে চলমান আলোচনা এই পদক্ষেপের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি এবং রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির লক্ষ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ আবেদন মূল্যায়ন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার প্রতিনিধি দল রুশ বিনিয়োগ তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিভকে একজন "সহযোগিতাপূর্ণ দূত" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, ইউক্রেনে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর ওপর চাপ বজায় না রেখে ট্রাম্প পুতিনকে অর্থনৈতিক ছাড় দিচ্ছেন।
রুশ ডিজেল চুক্তি ও পটভূমি
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর বাইডেন প্রশাসন ‘রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ (RDIF)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সে সময় বাইডেন প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা এরিক গ্রিন বলেছিলেন, "হাঁস-মুরগির খামারের মতো এ তহবিল দিয়ে ক্রেমলিন তাদের যুদ্ধ অর্থায়ন এবং নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করে আসছে।"
তবে, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে শুরু করে। গত ৯ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহ সচল রাখতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সাময়িক কিছু ছাড় দেওয়ার পর, এই তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিভের মধ্যস্থতায় রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ডিজেলবাহী তিনটি ট্যাঙ্কার রওনা দিয়েছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গে এক সাম্প্রতিক বৈঠকে ট্রাম্পের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে জানান, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এখন সরাসরি দিমিত্রিভের সাথে কাজ করছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
অন্যদিকে, বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্তাব্যক্তিরা সতর্ক করে বলেছেন যে, সংঘাতের কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ ধরণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া মানে রাশিয়ার আগ্রাসী নীতিকেই প্রশ্রয় দেওয়া। সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন