প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মো. আসাদুজ্জামান
সাতক্ষীরা, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, খুলনা ও নোয়াখালী জেলায় ৯০% সুপারি উৎপাদন হয়ে থাকে। পাশাপাশি, কক্সবাজারের টেকনাফ, পঞ্চগড়, রংপুর ও সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে সুপারির ব্যাপক আবাদ হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে সুপারি চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বল্প খরচে ভালো ফলন ও বাজারে উচ্চ দাম পাওয়ার ফলে দিন দিন সুপারি চাষের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। ইতোমধ্যে, জেলার অনেক কৃষক নতুন নতুন সুপারি বাগান গড়ে তুলছেন।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় পান উৎপাদনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সুপারিও উৎপাদিত হচ্ছে। গত বছর জেলায় মোট ১শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়েছিল। চলতি বছরে, ১শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ১০ হেক্টর বেশি জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে।
এ বছর ১শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত সুপারির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭শ’ ৭১ মে.টন। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২৭ থেকে ২৮ কোটি টাকা। কেজি প্রতি শুকনো সুপারি বিক্রির বাজার দর ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। কৃষিবিভাগ জানিয়েছে, প্রতিটি সুপারি গাছে ৪ থেকে ৫ কেজি সুপারি উৎপাদন হয়।
জেলার তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামের কৃষক অরবিন্দু কুমার বাসসকে জানান, তার তিন বিঘা জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। নারকেল বা অন্যান্য ফসলি গাছের সাথে মূলত সুপারি গাছ লাগানো হয়েছে। বছরে তিনি তার বাগান থেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করেন।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে তার বাগান থেকে সুপারি নিয়ে যান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব গাছে ৩৫ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে। তার গ্রামের অনেক কৃষক পান বরজের পাশাপাশি সুপারি বাগান করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জেলায় একমাত্র পাইকারি সুপারি বিক্রির মোকাম তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজার। সেখানে সপ্তাহে দুই দিন (মঙ্গল ও শুক্রবার) হাট বসে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ সুপারি বিক্রয়ের জন্য ব্যবসায়ীরা এ হাটে নিয়ে আসেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পাশের জেলা যশোর ও খুলনা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ হাটে এসে সুপারি সংগ্রহ করেন।
পাটকেলঘাটা বাজারের সুপারি বিক্রির আড়তদার হযরত আলী বাসসকে জানান, প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার তার আড়তে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা পাটকেলঘাটা থেকে সুপারি ও পান কিনতে আসেন।
সাতক্ষীরা শহরের পোস্ট অফিস মোড়ের পান-সুপারি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম জানান, সুপারি কাঁচা ও শুকনো উভয় ধরনের চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন তিনি প্রচুর পরিমাণ পান ও সুপারি বিক্রি করেন। পাটকেলঘাটা বাজার থেকে সপ্তাহে দুই দিন তিনি পান ও সুপারি পাইকারি ক্রয় করে এখানে নিয়ে এসে তা খুচরা বিক্রি করেন। কাঁচা সুপারি প্রতি হাজার ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে ক্রয় করছেন। এছাড়া, শুকনো সুপারি কেজি প্রতি সাড়ে ৪শ’ টাকা পাইকারি দামে ক্রয় করছেন।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বাসসকে জানান, চলতি বছরে জেলায় ১শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। এ পরিমাণ জমিতে উৎপাদিত সুপারি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭শ’ ৭১ মে.টন। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২৭ থেকে ২৮ কোটি টাকা।
তিনি আরও জানান, পান ও সুপারি আমাদের দেশের অর্থকরী ফসল। বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সুপারি উৎপাদন হচ্ছে সাতক্ষীরায়। বর্তমানে অনেকে বাড়ির বসতভিটা ও পুকুর ধারে সুপারি বাগান করছেন, আবার কিছু কৃষক সাথী ফসল হিসেবেও সুপারির সাথে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করছেন। উপকূলের উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে সাতক্ষীরার কৃষকরা যেভাবে সুপারি চাষে এগিয়ে আসছেন, তাতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এ খাতের সম্ভাবনা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, বেলে দো-আঁশ মাটি এবং ৫.৫ থেকে ৬.০ পিএইচ (pH) মান সুপারি চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি সুপারি-১ ও বারি সুপারি-২ জাতগুলোর অধিক ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এ জাতের সুপারি চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন