প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সারেংকাঠি ইউনিয়নে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ঘটে গেছে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা। এই সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একটি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে উপজেলার সারেংকাঠি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুরুতর আহত ওই অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং তাঁর স্বামীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার এক ব্যক্তির, যিনি হায়দার নামে পরিচিত, স্ত্রীর সঙ্গে রনি নামের এক স্থানীয় যুবকের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে এমন একটি অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চলছিল। সম্প্রতি ঘটনাটি উজ্জ্বল নামের এক যুবকসহ কয়েকজনের সামনে প্রকাশ পায়। পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে এলাকায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার পর হায়দার ও অভিযুক্ত রনি কথা বলার জন্য উজ্জ্বলের বাড়িতে যান। সেই সময় উজ্জ্বল তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি বাঁশবাগানে কাজ করছিলেন। পরে বাড়ি ফেরার পথে দুই পক্ষের মধ্যে একটি বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সংঘর্ষে উজ্জ্বল, তাঁর আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং তাঁর মা গুরুতর আহত হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উজ্জ্বলের মায়ের হাত কেটে যায় এবং অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে আঘাত লাগে, যা তাঁর শারীরিক অবস্থার জন্য আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।
এদিকে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে হায়দার ও তাঁর স্ত্রীও আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে হায়দার ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে কথা বলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, তবে কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মারধর করা হয়নি।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, গুরুতর আহত উজ্জ্বল ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে স্থানান্তর করা হয়েছে। উজ্জ্বলের মা বর্তমানে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। অন্যদিকে, হায়দার ও তাঁর স্ত্রীও একই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ ঘটনার ফলে বর্তমানে সারেংকাঠি ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে থানায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির খবরও পাওয়া গেছে জানাচ্ছেন স্থানীয় একাধিক সূত্র।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন