প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে তাজিয়া মিছিলে একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা পুলিশ নস্যাৎ করেছে। বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের মাধ্যমে অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, বলে স্থানীয় প্রশাসন জানায়।
আটক হওয়া ব্যক্তির নাম ফাইয়াজ প্রেমজি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৬ জুন) বাইকুল্লা অঞ্চলে অবস্থানের সময় আশুরার তাজিয়া মিছিলে ক্যাপসুল বিতরণের সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
তদন্তের মাধ্যমে জানা যায় যে, ফাইয়াজের বিতরণ করা ক্যাপসুল সেবনের পর অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরে বর্তমানে সবাই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। পরীক্ষা করার পর ক্যাপসুলে জিঙ্ক ফসফাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত বিষাক্ত এবং প্রাণঘাতী রাসায়নিক।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ফাইয়াজ নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি মিছিলে বিপুল মানুষের মাঝে এসব ক্যাপসুল ছড়িয়ে দিয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনার কথা ভাবছিলেন। শনিবার (২৭ জুন) আদালত তাকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন।
মুম্বাই পুলিশের উপকমিশনার (ডিসিপি) জয়ন্ত মীনা জানান, অভিযুক্ত ফাইয়াজের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক ক্যাপসুল জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৪ হাজার ৯০০টি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি ফসফরাস অর্ডারের তথ্যও পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভিড়ের মাঝে এসব ক্যাপসুলকে ব্যথানাশক ওষুধ হিসেবে উপস্থাপন করে বিতরণ করা হচ্ছিল। তবে তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের সন্দেহ ও দ্রুত তৎপরতার কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তারা অভিযুক্তকে বাধা দিয়ে পুলিশকে খবর দেন এবং মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করেন।
পুলিশ জানাচ্ছে যে, ফাইয়াজের পরিকল্পনায় যদি কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগসূত্র থাকে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জিঙ্ক ফসফাইড কী?
জিঙ্ক ফসফাইড একটি অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। এটি শরীরে প্রবেশ করার পর পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ফসফিন গ্যাস উৎপন্ন করে। এই গ্যাস মানবদেহের জন্য অত্যন্ত প্রাণঘাতী, এবং এটি সরাসরি হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি ও মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই বিষের জন্য নির্দিষ্ট কোনও প্রতিষেধক নেই। জিঙ্ক ফসফাইড বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র কার্যকর ব্যবস্থা হলো আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা। সেখানে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনে ভেন্টিলেটর সহায়তার মাধ্যমে তার জীবন রক্ষার চেষ্টা করা হয়।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন