প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে বেছে নিয়েছে। এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি সিয়াটল এলাকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্বাচিত এসব প্রতিষ্ঠান নাসার বিভিন্ন প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজে অংশগ্রহণ করবে।
নাসা জানায়, তারা যে সহযোগিতা কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেছে নিয়েছে, সেখানে কোম্পানিগুলো নাসার অংশীদার হিসেবে কাজ করার জন্য আবেদন করে। এই প্রস্তাবগুলোর লক্ষ্য হলো মহাকাশে যাতায়াতের প্রযুক্তি উন্নয়ন, গ্রহের পৃষ্ঠে কাজ করার সক্ষমতা তৈরি ও চাঁদের ওপর ভবিষ্যতের জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা। নাসার গবেষণা ও প্রযুক্তি মিশন বিভাগের উন্নত গবেষণা ও প্রযুক্তি শাখার পরিচালক গ্রেগ স্টোভার এক বিবৃতিতে জানান, নাসা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাঁদ, মঙ্গল ও এর বাইরের অভিযানে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করছে।
তিনি বলেন, বাণিজ্যিক খাতের সক্ষমতা ব্যবহার করে দ্রুত নতুন প্রযুক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে এবং বৃহৎ মহাকাশ মিশনগুলো এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে মহাকাশভিত্তিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
নাসা জানিয়েছে, এই চুক্তিগুলোর আওতায় কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। তবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো নাসার বিশেষ গবেষণাগার, সফটওয়্যার, যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা ব্যবহার করতে পারবে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রযুক্তি উন্নয়ন করতে পারবে, যা বাণিজ্যিক এবং সরকারি উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য হবে। প্রতিটি চুক্তির মেয়াদ আলাদা হবে, সাধারণত ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে।
নির্বাচিত ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিয়াটলের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো— অ্যারোজেট রকেটডাইন, রেডমন্ডভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান মহাকাশযানের চালনা ব্যবস্থার জন্য থ্রাস্টার তৈরি করছে। ব্লু অরিজিন, জেফ বেজোস প্রতিষ্ঠিত কেন্টভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান নাসার আর্টেমিস চন্দ্র কর্মসূচির জন্য মানুষবাহী ও কার্গো চন্দ্রযান তৈরি করছে। পাশাপাশি চাঁদের সম্পদ ব্যবহার করে ভবিষ্যতের যন্ত্রাংশ তৈরির প্রযুক্তিও উন্নয়ন করছে।
স্টারক্লাউড, রেডমন্ডের এই প্রতিষ্ঠান মহাকাশে ডেটা সেন্টার তৈরি করার জন্য হাজার হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। স্টোক স্পেস, সাবেক ব্লু অরিজিন কর্মীদের তৈরি এই কেন্টভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য মাঝারি ক্ষমতার রকেট তৈরি করছে। জেনো পাওয়ার সিস্টেমস, সিয়াটল ও ওয়াশিংটন ডিসিতে কার্যক্রম থাকা এই প্রতিষ্ঠান মহাকাশ ও পৃথিবীতে ব্যবহারের জন্য নতুন ধরনের পারমাণবিক ব্যাটারি তৈরি করছে।
আরো পড়ুন, নৌচলাচলের স্বাধীনতা কোনো বিলাসিতা নয়: শেহবাজ শরিফ। বাকি ৩২টি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অ্যাডভান্সড কুলিং টেকনোলজিস, অ্যাস্ট্রোবোটিক টেকনোলজি, অ্যাক্সিওম স্পেস, লকহিড মার্টিন, মেড ইন স্পেস, ম্যাক্স স্পেস, অরবিটাল কম্পোজিটস, টেলিডাইন এনার্জি সিস্টেমসসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান।
নাসা জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা সরকারি গবেষণা এবং বেসরকারি প্রযুক্তি খাতকে একসঙ্গে কাজ করাতে চায়, যাতে চাঁদ ও মঙ্গলে ভবিষ্যতের মানব মিশন আরো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন