প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিলিপাইনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে ‘মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ২০২৬’ হিসেবে মিসবাহ আরশাদ নির্বাচিত হয়েছেন। এই মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে চলেছেন, যা তাঁর দেশের জন্য গর্বের একটি মুহূর্ত।
মনোনয়ন পর্বের চূড়ান্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অসাধারণ উত্তর দিয়ে বিচারকদের মন জয় করেন মিসবাহ। অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন, মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক জশ ইউগেন, যিনি মিসবাহকে অফিসিয়াল স্যাশ পরিয়ে দেন। পরবর্তীতে, তাঁর পূর্বসূরি রোমা রিয়াজ মিসবাহর মাথায় বিজয়ীর মুকুট পরিয়ে দেন।
মিসবাহ আরশাদ কে?
মিসবাহ আরশাদ একজন মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী।
আরশাদ এর আগে বেশ কয়েকটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতাতেও তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। মিসবাহ শুধুমাত্র মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নন, বরং তিনি একজন মডেলও।
তিনি ফ্যাশন ও সৌন্দর্য বিষয়ক বিভিন্ন কনটেন্টও তৈরি করেন।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবির মাধ্যমে প্রকাশিত হয় যে, তিনি ভ্রমণ করতে বেশ পছন্দ করেন। নতুন সংস্কৃতি, স্থানীয় খাবার এবং প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো তার অন্যতম প্রিয় বিষয়। মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ২০২৬-এর মুকুট জয়ের পর, ইনস্টাগ্রামে তিনি জানান, মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
তিনি বিশ্বাস করেন যে, শিক্ষার মাধ্যমে মেয়েদের ক্ষমতায়ন সম্ভব। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে পাকিস্তানের লাহোরের একটি স্কুল পরিদর্শন করতে দেখা যায়।
সেখানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মিসবাহ বলেন, বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন, তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেওয়া, এবং পাকিস্তান নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানার পর, তিনি উপলব্ধি করেন যে, মেয়েদের শিক্ষায় বিনিয়োগ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী বিনিয়োগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
মিসবাহ আরশাদ লিখেছেন, ‘বছরের পর বছর আমি একটি বিষয় শিখেছি, ব্যর্থতা কখনোই ঠিক করে দেয় না আপনি বিজয়ী কি না। আসল বিষয় হলো আশা ধরে রাখা, চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং প্রতিটি ধাপে নিজেকে আরও ভালো করে তোলা।’
তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানে পরা সাদা গাউনটি আশার প্রতীক। এটি তাঁকে তাঁর স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস কখনো না হারানোর কথা মনে করিয়ে দেয়। মিসবাহ জানালেন, গাউনটিতে থাকা রয়্যাল ব্লু রঙের ক্রিস্টালগুলো শিক্ষা ও জ্ঞানের প্রতীক। শেখা এবং নিজেকে উন্নত করার মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জিত হয়, এগুলো তা প্রকাশ করে।
নিজের যাত্রা সম্পর্কে মিসবাহ লিখেছেন, ‘কখনো কখনো জয় পাওয়ার পরই বোঝা যায়, আসলে পুরো যাত্রাটিই ছিল সবচেয়ে বড় পুরস্কার। এই পথে বিভিন্ন আবেগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, নিয়মিত পরিশ্রম করতে হয়, অনেক কিছু শিখতে হয় এবং অনেক সুন্দর মানুষের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। এসব অভিজ্ঞতাই মানুষকে নিজের মানবিক অনুভূতির আরও কাছে নিয়ে যায়।’
৭৫তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা আগামী ২৪ নভেম্বর ২০২৬ সালে পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ানে অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশগ্রহণ করবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা। এজন্য বিভিন্ন দেশের স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করছে।
ইনস্টাগ্রামে মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ২০২৬-এর নতুন বিজয়ী মিসবাহ আরশাদ। সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস, মার্জিত আচরণ ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তিনি এখন বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন।’
সংস্থাটি আরও জানায়, আগামী নভেম্বরে পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিতব্য মিস ইউনিভার্স ২০২৬ প্রতিযোগিতায় মিসবাহ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন