প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নীলফামারী জেলার প্রতিটি উপজেলায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট হঠাৎ করেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যের প্রতি অগ্রাহ্যতা দেখিয়ে কিছু ডিলার ও পরিবেশক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে।
তারা শুধু দাম বাড়াচ্ছে না, বরং রাতের অন্ধকারে গ্যাস সরিয়ে ফেলছে। এভাবে গ্যাস সরিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে।
এক হাজার তিনশ' টাকার এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বর্তমানে এক হাজার নয়শ' থেকে দুই হাজার একশো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে সৈয়দপুরে গ্যাসের অপ্রতুলতা দেখা দিয়েছে।
শহরের মোড়ে মোড়ে সারিবদ্ধভাবে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো এখন উধাও হয়ে গেছে। সেখান থেকে গ্যাস বিক্রি করা হত।
মহল্লার পান দোকান, মুদি দোকান, লন্ড্রি দোকান, ফ্যাক্সি দোকান, এমনকি খড়ি দোকানেও গ্যাস পাওয়া যেত। বর্তমানে এসব স্থান গ্যাসশূন্য হয়ে পড়েছে।
কিছু দোকানে গোপনে গ্যাস বিক্রি হলেও দাম অত্যন্ত বেশি। প্রশ্ন করলে তারা সংকটের কথা বলছেন।
তবে অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ভোক্তা মুক্তা বানু ও ইয়াসিন আলী সরকার বলেন, "গ্যাস মিলছে না বাড়তি দামেও।" এক মুদি দোকানদার জানান, তিনি বাড়তি আয় করার জন্য দোকানে গ্যাস রাখতেন।
তবে বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সাধারণ ভোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম দিয়েও গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। কিছু দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও তা সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে ইচ্ছামতো দামে বিক্রি হচ্ছে।
এর ফলে বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
তারা বেশি দাম দিতে রাজি হলেও প্রয়োজনমতো সরবরাহ মিলছে না। ফলে দোকানে অল্প কিছু সিলিন্ডার এলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে-এমন খবর ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ডিলাররা দাম বাড়িয়ে দেন। গত কয়েকদিনে বসুন্ধরা প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ১শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
গ্যাস সিলিন্ডার রহস্যজনকভাবে বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। বাংলাদেশ হোটেল এন্ড রোস্তোরা মালিক সমিতি সৈয়দপুর উপজেলা শাখার এক নেতা জানান, সৈয়দপুরে গ্যাস সংকট চলছে।
বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না গ্যাস। সৈয়দপুর বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা জানান, সৈয়দপুরে বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাসের ডিলার রয়েছে বেশ কয়েকজন।
তাদের ডিপোতে প্রচুর গ্যাস ছিল। হঠাৎ এত গ্যাস গেল কোথায়, তা বোঝা যাচ্ছে না।
তারা কারসাজি করে গ্যাস স্টক করেছে। তাদের গোডাউনে অভিযান চালানো হলে গ্যাস বের হবে।
টিনের দোকানদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "আমি টিন ব্যবসার পাশাপাশি গ্যাস বিক্রি করতাম। এখন বাড়তি দাম দিয়েও গ্যাস পাচ্ছি না।" সৈয়দপুর শহরের গ্যাস ব্যবসায়ীরা জানান, বসুন্ধরা, যমুনা ও জেএমআই গ্যাসের সিলিন্ডার ডিলারদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না।
ওমেরা গ্যাস সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও ডিলার চাহিদামতো সরবরাহ করছে না। একেক দোকানে ৪ থেকে ৬টি করে সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে গ্যাসের ডিলাররা কোনো মন্তব্য করতে নারাজ। তারা শুধু বলছেন গ্যাস নেই।
কেউ কেউ গোডাউন ঘর তালাবদ্ধ রেখেছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সচেতন মহল ও ভোক্তারা বলছেন, দ্রুত অভিযান চালিয়ে মজুতদারি, অতিরিক্ত দাম আদায় ও মেমোবিহীন বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই কৃত্রিম সংকট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। সৈয়দপুর শহরের সাধারণ ভোক্তারা দ্রুত সময়ে অভিযানের জন্য জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি কামনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন