প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ ফিলিপাইন বাণিজ্যিকভাবে স্টারলিংকের ডিরেক্ট-টু-সেল (স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল) সেবা চালু করেছে। দেশটির মোবাইল অপারেটর গ্লোব টেলিকম, জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর, সারা দেশে এই সেবা চালু করেছে।
দেশটির জাতীয় টেলিযোগাযোগ কমিশন (এনটিসি) গ্লোব টেলিকমকে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে যেসব এলাকায় স্থানীয় মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি, সেখানকার মানুষদেরও মোবাইল সংযোগ ব্যবহার করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে ফিলিপাইনের প্রায় চার শতাংশ মানুষ স্থলভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার বাইরে আছেন। এই প্রযুক্তির প্রধান সুবিধাটি হলো উপযুক্ত স্মার্টফোন সরাসরি স্টারলিংকের নিম্ন কক্ষপথে থাকা ৬৫০টির বেশি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।
এতে মোবাইল টাওয়ারের ওপর ভিত্তি না করে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এসএমএস পাঠানো ছাড়াও, বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার, ভয়েস ও ভিডিও কল, নেভিগেশন সেবা এবং মোবাইল ডেটাও ব্যবহার করতে পারবেন।
গ্লোব টেলিকম জানিয়েছে, এই সেবা স্যাটেলাইট রোমিং প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত করা হবে। তবে ফিলিপাইনসের ভেতরে থাকা গ্রাহকদের অতিরিক্ত রোমিং চার্জ দিতে হবে না। তারা স্বাভাবিকভাবে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবেন। প্রথম পর্যায়ে যাদের সক্রিয় গ্লোব সিম রয়েছে এবং যারা অ্যান্ড্রয়েড এলটিই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তারাই এই সুবিধা পাবেন। গ্লোব জানায়, এই সেবা মূলত সেসব এলাকা জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি। অতিরিক্তভাবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা বা প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে এই স্যাটেলাইটভিত্তিক সংযোগ জরুরি যোগাযোগ বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জুন মাসে দক্ষিণ কোটাবাতো, সুলতান কুদারাত ও সারাঙ্গানির কয়েকটি এলাকায় ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়েছিল। তখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দেড় লাখের বেশি গ্রাহকের জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। গ্লোব টেলিকমের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কার্ল ক্রুজ জানান, এই বাণিজ্যিক সেবা চালুর মাধ্যমে মোবাইল টাওয়ারের বাইরে থাকা এলাকাতেও নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে দুর্গম অঞ্চলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতেও মানুষ যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি কেবল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ করবে না, বরং জরুরি পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
ফিলিপাইন, যেটি সাত হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত, সেখানে দেশের সব এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো দেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য। এছাড়া সেখানে প্রায়ই টাইফুন, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। গ্লোব জানায়, নতুন এই স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবার উদ্দেশ্য হলো আরও বেশি মানুষকে ডিজিটাল সেবার আওতায় নিয়ে আসা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। জাতীয় টেলিযোগাযোগ কমিশন বলেছে, এই উদ্যোগ সরকারের সবার জন্য ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ডিজিটাল বৈষম্য কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন