প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের এমপি আলহাজ্ব আসলাম চৌধুরী এফসিএ বলেছেন, কৃষক ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি মন্তব্য করেন, মাঠে ফসল ফলানো কৃষক এবং শিল্পের চাকা সচল রাখা শ্রমিকের ঘামেই বাংলাদেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে। অথচ আজ এ দুটি শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ও বঞ্চিত। আসলাম চৌধুরী বলেন, কৃষক ও শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, অর্থনীতি বাঁচবে এবং রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রখর রোদ ও তীব্র দাবদাহকে উপেক্ষা করে মিরসরাই কলেজ মাঠ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মিরসরাই উপজেলা জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভা থেকে আগত হাজার হাজার নেতাকর্মী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি সম্মেলনস্থলকে একপর্যায়ে জনসমুদ্রে রূপান্তরিত করে। মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো এলাকা।
আসলাম চৌধুরী আরও বলেন, দেশের কৃষক আজ বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি রয়েছেন। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সারের দাম, সেচ সংকট, বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা এবং কৃষি উপকরণের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। অন্যদিকে, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় লাভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটের হাতে। এর ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে উচ্চমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দেশের বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে। কৃষক উৎপাদন করে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, অথচ ভোক্তারা অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করছেন। এ বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কৃষিবান্ধব নীতি, সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তা এবং বাজার ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আসলাম চৌধুরী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ ও সাধারণ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিরসরাই সংসদীয় আসনের এমপি আলহাজ্ব নুরুল আমিন বলেছেন, মিরসরাই দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিটি আন্দোলনে এ অঞ্চলের মানুষ অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছে। আগামী দিনেও জাতীয়তাবাদী শক্তির সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নে মিরসরাইয়ের নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকবে। প্রধান বক্তা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষক দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মামুন বলেছেন, মিরসরাইয়ের নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত সৈনিক। নানা দুঃসময়ে তারা রাজপথে থেকে দলকে শক্তিশালী করেছেন। ত্যাগ, আদর্শ ও সাংগঠনিক নিষ্ঠার মধ্য দিয়েই আজকের এই শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে উঠেছে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি বদিউল আলম বদরুলের সভাপতিত্বে এবং নাজিমুদ্দিন শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি, মিরসরাই উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, কৃষক দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, মহিলা দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। সভাপতির বক্তব্যে বদিউল আলম বদরুল বলেছেন, তৃণমূল সংগঠন যত শক্তিশালী হবে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তত বেশি শক্তিশালী হবে। কৃষকের অধিকার আদায় এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে মিরসরাই কৃষক দল অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
সম্মেলনে আগামী এক মাসের মধ্যে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কৃষক দলের কমিটি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকের ন্যায্য অধিকার আদায়, গণসংযোগ বৃদ্ধি, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সম্মেলন শেষে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে একটি বিশাল গণমিছিল মিরসরাই সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি, উচ্ছ্বাস এবং সাংগঠনিক শক্তির প্রদর্শন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ সম্মেলন মিরসরাইয়ে বিএনপি ও কৃষক দলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন