প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অল্পবয়সী মেয়েদের অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানালো ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ প্রসঙ্গে এক প্রস্তাব পেশ করে ইইউ পার্লামেন্ট, তারা পাকিস্তান সরকারের কাছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাদের এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ১৩ বছর বয়সী পাকিস্তানি খ্রিস্টান কিশোরী মারিয়া শাহবাজের ভয়াবহ ঘটনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। গত বছরের জুলাই মাসে মারিয়াকে অপহরণ করা হয় এবং চলতি বছরের মার্চ মাসে তাকে জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তরিত করে তার অপহরণকারীকে বিয়ে দেওয়া হয়।
ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরা মারিয়া শাহবাজের জন্য আইনগত প্রতিনিধিত্ব, পরিবার ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিতের দাবি করেছেন। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, মারিয়া শাহবাজের ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চলমান ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক।
জাতিসংঘের একটি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের মাধ্যমে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের শিকার নারীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ হিন্দু এবং ২৫ শতাংশ খ্রিস্টান; এ নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট পাকিস্তানকে তাদের জাতীয় আইনগত কাঠামো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে, যা ইতোমধ্যে পাকিস্তানের কিছু প্রদেশে কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া অপহৃত বা জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত মেয়েদের পরিবারের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় ব্যবস্থা’ তৈরি করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
পার্লামেন্ট সদস্যদের মন্তব্য রয়েছে যে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের যেকোনও অভিযোগের ওপর স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা করা আবশ্যক। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে পাকিস্তানের বিচারিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার দাবি জানানো হয়েছে, এবং অপহৃত মেয়েদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ‘হিউম্যান রাইটস ফোকাস পাকিস্তান’ (এইচআরএফপি) মারিয়া শাহবাজের ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানায়। সংগঠনটি এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে যে, পাকিস্তানে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে খ্রিস্টান ও হিন্দু মেয়েদের অপহরণ ও জোরপূর্বক বিয়ে একটি নিয়মিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, যখন মারিয়াকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়, তখন সে স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর ও বিয়ের দাবি করলেও, তার নাবালিকা অবস্থা নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও আদালত বিয়েটি বজায় রাখে এবং অভিযুক্তকে তার অভিভাবকত্ব প্রদান করে। বর্তমানে মারিয়ার পরিবার এই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি আপিল প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন