প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচারের জন্য শিশুদের ব্যবহার করে আসছিল একটি চক্র। অসহায় ও হতদরিদ্র শিশুদের ৮ হাজার টাকা ভাতা এবং শিশুদের পাকস্থলীতে ইয়াবার প্যাকেট ঢুকিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হতো।
এ চক্রের মূলহোতা শারমিন আকতার ইসমত আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই শিশুকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে দুই শিশুর পাকস্থলী থেকে ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় র্যাব-৭-এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির কম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম।
র্যাব জানায়, শিশুদের ব্যবহার করে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে আসছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার সরকারহাটের তৈলার দ্বীপ এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি শুরু করা হয়। তল্লাশির সময় একটি সিএনজি অটোরিকশায় থাকা শারমিন আকতার ইসমত আরাকে (৪০) আটক করা হয়। এ সময় ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে শারমিন আকতার ও শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দুই শিশুর পাকস্থলীতে ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শিশু দুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সহায়তায় এক্স-রে পরীক্ষায় তাদের পাকস্থলীতে ইয়াবা ট্যাবলেট সদৃশ বস্তু দেখা যায়।
চিকিৎসার একপর্যায়ে ৯ বছর বয়সী শিশুটির মলত্যাগের মাধ্যমে ৬৭টি ইয়াবার পোটলা এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটির মলত্যাগের মাধ্যমে ৬৬টি ইয়াবার পোটলা উদ্ধার করা হয়। ইয়াবাগুলো স্বচ্ছ পলিপ্যাকে মোড়ানোর পর কালো স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে জাম সদৃশ আকার দেওয়া হয়েছিল।
এসব প্যাকেটে মোট ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা পাওয়া যায়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা।
র্যাব-৭-এর কম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম বলেন, অসহায় ও হতদরিদ্র শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি চক্র ইয়াবা পাচার করছিল। শিশুদের শরীরের ভেতরে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচার করা হতো। চক্রটির মূলহোতা ইসমত আরা। শিশু দুটির বাড়ি আলীকদমে। তাদের মাসিক ৮ হাজার টাকা ভাতা এবং পরিবারের বাজার খরচ দেওয়ার কথা বলে প্রলোভন দেখানো হয়। এরপর শিশু দুটিকে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কৌশলে পলিথিনে মোড়ানো ইয়াবার ছোট ছোট প্যাকেট তাদের খাওয়ানো হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, পাকস্থলীতে ইয়াবা বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ কাজের কারণে কোনো শিশু তাৎক্ষণিক কোনো লক্ষণ প্রকাশ না করেও মৃত্যুবরণ করতে পারে। পেটে থাকা প্যাকেটগুলোর কোনো একটি কোনো কারণে ছিদ্র বা লিক হলে শিশুর শরীরে মারাত্মক বিষক্রিয়া হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, শিশু সন্তান নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি প্রলোভন দেখিয়ে তাদের এ ধরনের কাজে ব্যবহার করতে না পারে।
র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন আকতার জানিয়েছে, কক্সবাজারের উখিয়া থেকে ইয়াবা কিনে পরিবহনের সুবিধার্থে শিশুদের কৌশলে ইয়াবা খাওয়ানো হতো। পরে তাদের চট্টগ্রাম শহরে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হতো। এর আগেও দুইবার একই কৌশলে শিশু দুটির পাকস্থলীতে ইয়াবা বহন করে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম শহরে চালান পৌঁছে দিয়েছিল চক্রটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন