প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একদিকে বিভিন্ন উদ্যোগে জলাধার সংরক্ষণে সরকারের প্রচেষ্টা, অন্যদিকে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত লেকের একটি অংশ ভরাট করে গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণ হচ্ছে। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহিদ রুদ্র সেন লেক’ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এখন চলছে তীব্র বিতর্ক। শিক্ষার্থীদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে অন্য এক উন্নয়ন চাপা দিয়ে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে লেকের উপরে গ্যারেজ নির্মাণ হচ্ছে, যা প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার অভাব নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল ইসলাম চৌধুরী আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে। লেক নিয়ে চলা সমালোচনার মাঝে সময়ে সময়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা এড়িয়ে গেছেন এই প্রধান প্রকৌশলী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তা অবশ্যই সঠিক।
এই সবুজ পাহাড়ঘেরা ক্যাম্পাসের মাঝখানে একটি জলাধার অবস্থিত। যে জলাধার কেবল সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে না, বরং বর্ষায় জলাবদ্ধতা দূরীতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখানে ফুটে আছে লাল শাপলা এবং সবুজ ঘাস। শিক্ষার্থীরা সেখানে নিজেদের স্বতঃস্ফূর্ত সময় কাটান।
খাল খননের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এই যাত্রা। পরবর্তীতে সেটি লেকের আকার ধারণ করে, এবং শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিতি লাভ করে ‘সাস্ট লেক’ নামে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শিক্ষার্থী রুদ্র সেনের স্মরণে লেকটির নামকরণ করা হয় ‘শহিদ রুদ্র সেন লেক’। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে দৃশ্যপট কতটুকু বদলে গেছে আমরা সবাই জানি। লেকের একটি বড় অংশ বর্তমানে মাটিতে ভরাট করে গ্যারেজ নির্মাণের কাজ চলছে।
অভিযোগ উঠেছে, গ্যারেজ নির্মাণের জন্য পাশের টিলার কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, নির্মিতব্য গ্যারেজে মাত্র ২২টি গাড়ি রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে ৪২টি গাড়ি রয়েছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা আছে। ফলে প্রকল্পটির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গ্যারেজের পাশেই একটি বড় খালি জায়গা থাকাগেও কেন এখানে গ্যারেজ নির্মাণের জন্য জায়গা নির্বাচন করতে হবে, এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা মনে করছেন সৌন্দর্য নষ্ট করে অপরিকল্পিত উন্নয়নকে তারা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না, পাশাপাশি এখানে দুর্নীতির ছায়াও দেখছেন। এর সাথে তারা জানিয়েছেন উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে অন্য একটি উন্নয়ন চাপিয়ে বাজেট নষ্ট করার কারণে তারা ক্ষুব্ধ।
উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে লেক ভরাট করে গ্যারেজ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার নানা সিদ্ধান্ত এবং অনিয়মের ফলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এবার লেক ভরাট করে গ্যারেজ নির্মাণের অভিযোগে তিনি কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। পরিবেশকে ধ্বংসের এই বিতর্কে সমালোচনার তির তার দিকেই। যখন সময় সংবাদ অনুসন্ধান শুরু করে, তখন যেন এই কর্মকর্তা লাপাত্তা হয়ে যান।
একাধিকবার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানাতে তার কার্যালয়ে গেলেও দেখা হয়নি। প্রথমে বলা হয়েছিল তিনি অফিসে আছেন, পরে জানানো হয় তিনি বাইরে গেছেন। মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের প্রচেষ্টা চালালেও তার কাছ থেকে সাড়া মেলেনি।
লেক ভরাটের অভিযোগ যত ঘনীভূত হচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রশ্ন, কেন প্রধান প্রকৌশলী নীরব? অভিযোগের জবাব এড়িয়ে যাওয়ার পেছনে কি কেবল ব্যস্ততা, নাকি রয়েছে অন্য কোনো কারণ?
বিজ্ঞানীদের মতে, লেকের জায়গায় লেক রেখে বিকল্প জায়গায় গ্যারেজ নির্মাণ ও উন্নয়নের নামে যে সমন্বয়হীনতার প্রকল্প হচ্ছে, পরিবেশবিদরা তা মেনে নিতে পারবে না। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সাধারণ সম্পাদক কাসমির রেজা বিষয়টি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সদ্য দায়িত্ব গ্রহণকারী নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো হবে এমন সিদ্ধান্তই প্রশাসন এখন থেকে নেবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
প্রায় ৩২০ একর জায়গায় বিস্তৃত পুরো ক্যাম্পাসে রয়েছে ৯০০ থেকে ১০০০ মিটার দীর্ঘ দুটি দৃষ্টিনন্দন লেক, যা কিলোরোডকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন