প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাধ্যতামূলক প্রি-কেস মেডিয়েশন (মামলা পূর্ব বিরোধ মীমাংসা) চালুর ফলে সুনামগঞ্জে আইনি সেবা প্রাপ্তি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। গত এক বছরের মধ্যে লিগ্যাল এইড অফিসে প্রি-কেস আবেদনের সংখ্যা বেড়ে শতকরা ৯৮১ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে, আপোষে আর্থিক আদায়ের পরিমাণ প্রায় ১৩ গুণ বেড়ে ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার এবং সিভিল জজ মোহাম্মদ জুনাইদ জানান, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাধ্যতামূলক প্রি-কেস মেডিয়েশন চালু হয়। এই পদক্ষেপের ফলে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে।
গত এক বছরের (জানুয়ারি-জুন ২০২৫ থেকে জানুয়ারি-জুন ২০২৬) প্রি-কেস আবেদন সংখ্যা বেড়ে ১৭১ থেকে ১ হাজার ৮৪৯ হয়েছে, যা প্রবৃদ্ধি ৯৮১%। প্রি-কেস মীমাংসা ৭৯টি থেকে বেড়ে ২৬৬টিতে পৌঁছেছে, এতে প্রবৃদ্ধি ২৩৬% হয়েছে। আপোষে আর্থিক আদায় ২ লাখ ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে, প্রবৃদ্ধি ১২২৩%। সরকারি আইনি সহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যা ১৫৭ জন থেকে বেড়ে ৭৪৬ জন হয়েছে, যা প্রবৃদ্ধি ৩৭৫%। আইনগত পরামর্শ গ্রহণকারীর সংখ্যা ৬২০ জন থেকে বেড়ে ৭৫৭ জন হয়েছে, প্রবৃদ্ধি ২২%।
সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য অনুষ্ঠান সংখ্যা ৩টি থেকে বেড়ে ৪৬টি হয়েছে, প্রবৃদ্ধি ১৪৩৩%। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সংখ্যা ৭৭ জন থেকে বেড়ে ১৯৯৫ জনে পৌঁছেছে, প্রবৃদ্ধি ২৪৯০%। মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৩৯ জন থেকে বেড়ে ২,৫১৩ জন হয়েছে, প্রবৃদ্ধি ২৯৩%। মোট নিষ্পত্তি সংখ্যা ১৮৫টি থেকে বেড়ে ১, ৮৩২টিতে পৌঁছেছে, প্রবৃদ্ধি ৮৯০%।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মোহাম্মদ জুনাইদ আরও বলেন, অনেক মানুষ মনে করে, লিগ্যাল এইড অফিসের আপোষনামা সম্ভবত একটি অনানুষ্ঠানিক বোঝাপড়া। তবে প্রকৃত অর্থে, আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের অনুসারে এই আপোষনামা আদালতের ডিক্রির সমপর্যায় লাভ করে। এটি আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য একটি দলিল। কোনো পক্ষ যদি আপোষনামা অমান্য করে, তবে অপরপক্ষ আইনি প্রতিকার পেতে পারে।
তিনি জানান, যদি মীমাংসার সময়ে কোন পক্ষের স্বার্থ বা সম্পত্তির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে প্রয়োজনীয় অন্তর্র্বতীকালীন আদেশ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সুরেষা বেগম বাসসের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘আমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ ছিল। সরকারের লিগ্যাল এইডের সাহায্যে আমাদের দুই পক্ষের আলোচনায় মীমাংসা হয়েছে। এতে আমরা দুইজনই ন্যায্য বিচার পেয়েছি।’
দোয়ারাবাজার উপজেলার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ভাইয়েরা মধ্যে বিরোধ ছিল। সরকারের আইন সহায়তা নিয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। এজন্য আমাদের দীর্ঘদিন ধরে আদালতের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হয়নি।’
লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা এবং সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আলোচনা মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাওয়ায় নাগরিকরা নানাবিধ সুফল পাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন সময় ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক অটুট থাকছে।
তারা বলেন, প্রি-কেস মেডিয়েশন শুরু হওয়ার কারণে আদালতে নতুন মামলার চাপ কমছে। আইনগত বাধ্যবাধকতাসহ দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত হচ্ছে। ফলে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় হচ্ছে।
সিভিল জজ মোহাম্মদ জুনাইদ বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল মামলার সংখ্যা কমানো নয়, বরং মানুষের দরজায় দ্রুত, সহজ ও কার্যকর ন্যায়বিচার প্রদান করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন