প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নীলফামারীর ডোমারে এক নারীর সঙ্গে যৌনকর্মী নিয়ে দ্বন্দ্ব ও মারধরের ঘটনায় শ্যামল শর্মা (৩৮) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনায় নিহতের পরিবার কর্তৃক দায়ের করা মামলায় পুলিশ শাহনাজ বেগম (৩০) ও আব্দুর রশীদ (৪৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিহত শ্যামল শর্মা ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন এবং পেশায় তিনি নাপিত ছিলেন। আটককৃতদের মধ্যে শাহনাজ বেগম (৩০) রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী এবং আব্দুর রশীদ (৪৫) ডোমারে হরিনচড়া ইউনিয়নের শালমারা শেওটগাড়ী এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে আব্দুর রশীদসহ কয়েকজন রাজশাহী থেকে শাহনাজ বেগম নামের ওই নারীকে ডোমারের নীলাহাটিতে কলন্দর নদীর পাড়ে অনৈতিক কাজের জন্য নিয়ে যান।
পরে তাকে নীলাহাটি শ্মশানঘাটের পাশের কলন্দর নদীর এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
নিহতের ভাই কৃষ্ণ শর্মার অভিযোগ, সোমবার রাতে নীলাহাটি শ্মশানঘাটে শ্যামল ও হাফিজ নামের দুই ব্যক্তি তার বড় ভাই শ্যামল শর্মাকে ফোন করে ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর একপর্যায়ে তার ভাইয়ের অন্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর ফলস্বরূপ আব্দুর রশীদ, শ্যামল, হাফিজসহ কয়েকজন তার ভাইকে মারধর করেন। এতে শ্যামল অচেতন হয়ে পড়েন।
কৃষ্ণ শর্মা আরও জানান, পরে শাহজাহান নামের এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন থেকে তাদের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্যামলকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। তার নাভির নিচের অংশ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ওই এলাকায় বাইরে থেকে নারী এনে রাতের আঁধারে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম সরকার শ্যামল শর্মার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অন্য জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন