প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৬ জুন, ২০২৬, পটুয়াখালীর বাউফলের দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যানকে চেয়ারম্যানপদ থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অনাস্থাপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে পরিষদের উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম মামুনকে দফায় দফায় মারধর করার অভিযোগ রয়েছে একজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ঐ বিএনপি নেতার নাম হচ্ছে মো. আলী আজম। তিনি দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
মঙ্গলবার দুপুরে, দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম মামুনকে প্রথম দফায় মারধর করা হয় এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিতে গেলে দ্বিতীয় দফায় মারধরের ঘটনা ঘটে।
এর আগে, সোমবার সকালে কয়েকজন মেম্বারের কাছ থেকে বিএনপি নেতা আলী আজমের নেতৃত্বে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই স্বাক্ষরিত কাগজের মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে দুজন ইউপি সদস্য পৃথকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দাশপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেন। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে দাসপাড়া ইউপির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যে চেষ্টা করতে দেখা গেছে দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীকে।
দাশপাড়া ইউপির উদ্যোক্তা সাইফুল হাসান হলেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের শ্যালক। এজন্য সাইফুল হাসানকে মারধর করে তার ল্যাপটপ ছিনিয়ে নিয়েছে এবং ওই কক্ষে ও মূল ফটকে তালা মেরে রাখা হয়েছে।
সাইফুল হাসান অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিদিনের মতো তিনি তার কক্ষে বসে সেবা প্রদান করে যাচ্ছিলেন। দুপুর একটার দিকে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে বের হতে বলেন। তিনি বলেন, ইউএনও স্যারের অনুমতি ছাড়া তিনি বের হবেন না বলায় আলী আজম মারধর শুরু করলে সবাই একসাথে এসে তাকে কিল-ঘুসি মেরে আহত করতে থাকে।
দাসপাড়া ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম হাওলাদার অভিযোগ করেছেন যে, সোমবার সকাল ১০ টায় বিএনপি নেতা আলী আজমের নেতৃত্বে ৪০-৪৫ জনের একটি দল তার কালাইয়া বাজারের বাসায় প্রবেশ করে তাদের লিখিত কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন। কি লেখা জানতে চাইলে আলী আজম বলেন, চেয়ারম্যানকে অনাস্থা দিতে হবে। স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়া হয় আলী আজম ও তার লোকজনের দ্বারা। তিনি জানিয়েছেন যে, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তিনি লিখিত আবেদন করেছেন।
দাসপাড়া ইউপির ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য কুলসুম বেগম অভিযোগ করেন, সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিএনপি নেতা আলী আজমের নেতৃত্বে ৪০-৪৫ জনের একটি দল তার ঘরে প্রবেশ করে তাদের লিখিত কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন। অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হয়। উল্লেখ্য, তিনি রোববার চোখের অপারেশন করিয়েছিলেন এবং বিশ্রামে ছিলেন। এই কারণে তিনি ভয়ে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হন।
বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী বলেছেন, 'যা কিছু ঘটেছে ইউপি সদস্যরা ঘটিয়েছেন। আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নাম বলা হচ্ছে।'
ইউএনও সালেহ আহমেদ বলেন, 'উদ্যোক্তাকে মারধরের খবর পেয়েছি। এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা।' অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দাসপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়েকজন ইউপি সদস্যদের অনাস্থার একটি আবেদ পেয়েছেন। পাশাপাশি দুই ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার পৃথক দুটি অভিযোগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন