প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের কালকিনিতে সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে নিজেদের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে একটি ভাঙা ব্রিজ সংস্কার করে এলাকার মানুষের মাঝে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় সমাজসেবক রেজাউল ফকির ও আবু সাঈদ। তাদের এই মহতী উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন গ্রামবাসী। শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের ৯৩ নং পূর্ব চর আইর কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সড়কের মধ্যে রনি হাওলাদারের বাড়ির সামনে একটি বক্স কালভার্টের সংস্কার কাজ শুরু করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বক্স কালভার্টটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। যা অবৈধ মাহিন্দ্রা ট্রলি চলাচলের ফলে কালভার্টটি মাঝখানে ভেঙে যায়। ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে স্কুলর কোমলমতি শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। গ্রামবাসীর এই চরম দুর্ভোগ দেখে এগিয়ে আসেন এলাকার সুপরিচিত সমাজসেবক রেজাউল ফকির ও আবু সাঈদ। তারা কারও অনুদান বা সরকারি তহবিলের অপেক্ষা না করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সামগ্রী এনে কালভার্টটি মেরামতের উদ্যোগ নেন। তাদের প্রচেষ্টায় কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রনি হাওলাদার বলেন, কালভার্টটি জন্য আমাদের কষ্টের সীমা ছিল না। বিশেষ করে শিশু বৃদ্ধদের চলাচলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতো রিকশা-ভ্যান চলাচল করতে পারত না। সমাজসেবক রেজাউল ফকির ও আবু সাঈদ নিজেদের খরচে আমাদের এই কালভার্টটি সংস্কার করে দিচ্ছেন আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজসেবক রেজাউল ফকির ও আবু সাঈদ বলেন, আমারা কোনো প্রশংসা বা প্রচারের জন্য এটি করিনি। প্রতিদিন চোখের সামনে ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে আর অসুস্থ মানুষকে এই কালভার্টটির উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখতাম। বিবেকের তাড়না থেকেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কালভার্টটি চলাচলের যোগ্য করার চেষ্টা করেছি মাত্র। আমাদের সবারই উচিত শুধু সরকারের ওপর ভরসা না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসা।
কালভার্টটি সংস্কারের পর এলাকার সাধারণ মানুষ অনেকেই বলছেন, সমাজের বিত্তবানরা যদি এভাবে নিজ নিজ এলাকার জনদুর্ভোগে এগিয়ে আসেন, তবে দেশের গ্রামীণ অবকাঠামোর চিত্র দ্রুত বদলে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন