প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত কৃত্রিম তন্তুর কাঁচামালের ওপর যদি শুল্ক আরোপ করা হয়, তখন সুতা উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাবে এবং উচ্চমূল্যের পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হবে; এই আশঙ্কা করছেন বস্ত্রকল মালিকরা। এজন্য তারা নতুন অর্থবছরের বাজেটে কৃত্রিম তন্তুর কাঁচামালের ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদরা জানান যে, ফাস্ট ফ্যাশনের যুগে তুলানির্ভর পোশাকের বাইরে চলে যেতে শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ করা জরুরি।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে ম্যান-মেইড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুর তৈরি পোশাকের চাহিদা প্রায় ৭০ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখনো মূলত তুলানির্ভর অবস্থায় রয়েছে। ফলে, রফতানির পরিমাণ বেশি থাকলেও, দেশের পোশাক খাত পণ্যের মূল্য বাড়াতে পারছে না।
এমন পরিস্থিতিতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবারের ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার হলো কৃত্রিম আঁশের সুতা ও কাপড় তৈরির প্রধান কাঁচামাল।
কিন্তু উদ্যোক্তাদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যদি এ শুল্ক কার্যকর হয়, তাহলে সংকটে থাকা স্পিনিং শিল্প আরও বড় চাপের মুখে পড়বে। বিটিএমএর ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি সালেউদ জামান খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই সুতা রফতানি করতে হয়। স্থানীয়ভাবে ৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে কাঁচামাল আমদানি করলে পিএসএফ, পি সি ও সিবিসি ধরনের পণ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমানে দেশের পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত কৃত্রিম আঁশের সুতার মাত্র ২০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হয়। উদ্যোক্তাদের দাবি, পলিয়েস্টার ফাইবারে শুল্ক আরোপ হলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ক্ষীণ হয়ে যাবে। তাই, শুল্ক আরোপের পরিবর্তে স্থানীয় শিল্পকে প্রণোদনা দেয়ার প্রয়োজন।
বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, বিষয়টি মূলত বিটিএমএর খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। কারণ ফাইবার আমদানি করে তা থেকে সুতা তৈরি করার প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এখনো ফাইবার থেকে সুতা উৎপাদন করার সক্ষমতা সীমিত।
বিটিএমএর ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি সালেউদ জামান খান আবারও জানান, বর্তমানে দেশীয় মোট ফাইবার চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। বাকি ৮০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। এ অবস্থায় শুল্ক আরোপ আমদানিকে নিরুৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে দেশে সুতা উৎপাদনের পরিবর্তে বিদেশ থেকে সরাসরি সুতা আমদানির প্রবণতা বৃদ্ধি করবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, চীন ও ভিয়েতনামের মতো উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনকারী দেশের কাতারে যেতে হলে স্থানীয় কাঁচামাল উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জনের আগে ম্যান-মেইড ফাইবারে শুল্ক আরোপ আদৌ যৌক্তিক হবে না।
পলিসি থিংক অ্যান্ড ইকোনোমিক রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বলেন, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ও চীনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি এবং কাঁচামাল ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাত প্রতিযোগিতা হারানো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।
বিটিএমএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৬ হাজার কোটি টাকার সুতা আমদানি করেছে। এর মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ছিল কৃত্রিম তন্তুর সুতা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন