প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রপ্তানি বৃদ্ধি, পরিবেশগত মানদণ্ড প্রতিপালন জোরদার এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করেছে, যার পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকা।
আজ প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে গঠিত এই স্কিমের মাধ্যমে চামড়া শিল্পকে টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে পরিণত করা হবে, যার ফলে এই শিল্পের উন্নয়নে বিশেষভাবে সহায়তা প্রদান সম্ভব হবে।
এই স্কিমের আওতায় কারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ যেমন- ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি), স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি), ডাম্পিং ইয়ার্ড এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য অর্থায়ন করা হবে।
এ ছাড়া, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্ল Üজি) সনদ অর্জনের ব্যয়, বিদ্যমান ট্যানারি আধুনিকীকরণ এবং চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক, আনুষঙ্গিক উপকরণ ও অন্যান্য সহায়ক পণ্যের দেশীয় উৎপাদনে এই তহবিল থেকে সহায়তা গ্রহণ করা যাবে।
স্কিমের আওতায় ঋণগ্রহীতাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করা হবে। এছাড়া অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্স) সুবিধা দেওয়া হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে।
আরও জানানো হয়েছে, এই তহবিল রিভলভিং ভিত্তিতে তিন বছর মেয়াদে পরিচালিত হবে। নতুন কারখানা নির্মাণকালে সর্বোচ্চ সাত বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে, যার মধ্যে দুই বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। বিদ্যমান কারখানা আধুনিকীকরণে সর্বোচ্চ চার বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। কার্যকর মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ঋণের মেয়াদ এক বছর, যেমনটি সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে।
বাংলাদেশের সকল তফসিলি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের সাথে চুক্তি সাপেক্ষে এই স্কিমে অংশ নিতে পারবে।
স্কিমের আওতায় নতুন চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা, নতুন চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন অবকাঠামোর জন্য ২০ কোটি টাকা, বিদ্যমান স্থাপনা আধুনিকীকরণের জন্য ১০ কোটি টাকা এবং সহায়ক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যকর মূলধনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করা হবে। টেকসই উৎপাদন নিশ্চিতকরণের জন্য স্কিমের আওতায় বেশ কিছু শর্তও আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন পাওয়ার দুই বছরের মধ্যে এলডব্লিউজি সনদ অর্জন করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া, শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত ঋণগ্রহীতারা এই স্কিমের আওতায় অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে না।
এছাড়া, একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) এবং গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) থেকে ইতোমধ্যে সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও এই স্কিমের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন