প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চর কালিকাপুর শেখ করিমুন্নেসা ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে সরকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে, কেন্দ্রটি থেকে সিজারিয়ান অপারেশনের একটি বেড সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা ভ্যানসহ এক ব্যক্তিকে আটকে দেন। পরে সেখান থেকে বেডটি কেন্দ্রের ভেতরেই রেখে বেড সরানোর চেষ্টাকারী ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে একটি ভ্যান নিয়ে একটি ব্যক্তি চর কালিকাপুর শেখ করিমুন্নেসা ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এরপর, কেন্দ্রের ভেতর থেকে সিজারিয়ান অপারেশনের বেডটি ভ্যানে ওঠানোর চেষ্টা করা হলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। তখন তারা ভ্যানটি আটক করে ওই বেড সরানোর অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান।
তবে সেই সময়ে কোনো কাগজপত্র তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে না পারলে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে ভ্যানচালক বেডটি কেন্দ্রের ভেতরেই রেখে চলে যান, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে এমন তথ্য পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা সরঞ্জাম কোথায়, কী কারণে এবং কোন প্রক্রিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, এসব সম্পর্কে তাদের কোনোভাবে অবহিত করা হয়নি। তারা দাবি জানাচ্ছেন, সরকারি সম্পদ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির বলছেন, “সেবার জন্য দেওয়া সরকারি সম্পত্তি এভাবে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।”
মাদারীপুর পৌরসভার ছাত্রদলের আহ্বায়ক প্রার্থী ইয়াসমিন আরাফাত বলেন, “সরকার গরিব ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছে। সেই হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম কোনো প্রজ্ঞাপন বা নোটিশ ছাড়াই এভাবে নিয়ে যাওয়া হলে বিষয়টি অবশ্যই প্রশ্নের সৃষ্টি করে। প্রশাসনের কাছে আমরা আশা করি ঘটনার সঠিক তথ্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে মাদারীপুর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মতিউর রহমান জানান, “সিজারিয়ান অপারেশনের বেডটি মাদারীপুর মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রে নেওয়া হবে। পরবর্তীতে পাঁচখোলা ইউনিয়নের হাসপাতালটি আবার চালু হলে বেডটি সেখানে হস্তান্তর করা হবে।”
কোনো প্রজ্ঞাপন বা নোটিশের মাধ্যমে বেডটি সরানো হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “অফিসে কাগজপত্র আছে। তবে জনগণের উপকারের কথা মাথায় রেখেই এটি নেওয়া হয়েছে।”
সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন