প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাজশাহীর এক ব্যবসায়ীর কোটি টাকা মূল্যের ৪০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির প্রধান আসামি পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া ২০ ভরি স্বর্ণ।
শনিবার দিবাগত রাতে রাজশাহীর স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিঝুম মামলাটি দায়ের করেন। কনস্টেবল জাকিরকে মামলার এজাহারে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর ভগিনীপতি মোহাম্মদ আলী এবং তার ছেলে নয়নও মামলায় আসামি হয়েছেন। এছাড়া, আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পরস্পরের সহযোগিতায় কোটি টাকার স্বর্ণ ছিনতাই করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি দায়ের হওয়ার পর শনিবার রাতেই কনস্টেবল জাকির হোসেন এবং বাদীর ভগিনীপতি মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলার পুলিশ মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ রোববার দুপুরে এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, তদন্তের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের রিমান্ডের আবেদনও আদালতে জমা দিয়েছেন।
গ্রেফতারের পর কনস্টেবল জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর শ্যামপুর গ্রামে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মরাপাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজের পাশে ৮ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজশাহীর ব্যবসায়ী নিঝুম ৮ আগস্ট ৪০ ভরি স্বর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তরের জন্য মোহাম্মদ আলীকে পাঠান। ঘটনার দিন বিকালে কনস্টেবল জাকির সাদা পোশাকে স্বর্ণ ছিনতাই করেন। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে কনস্টেবল জাকিরকে শনাক্ত করা হয়।
জাকিরের সঙ্গে মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলে নয়নের ফোনালাপের কলরেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা যায়, তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্বর্ণ ছিনতাই করেন। ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাতের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার মোহাম্মদ আলী পুলিশকে ২০ ভরি স্বর্ণ দেওয়ার সময় জানিয়েছেন যে, বাকি ২০ ভরি স্বর্ণ কনস্টেবল জাকির হোসেনের কাছে রয়েছে। তিনি স্বর্ণের চালানটি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জাকিরকে আগে থেকেই জানিয়েছিলেন। কিভাবে ছিনতাই করতে হবে তাও বলেছিলেন। এই ছিনতাই পরিকল্পনায় তার ছেলে নয়নও জড়িত ছিল। স্বর্ণ হস্তান্তরের সময় জাকির অভিযানের নামে ওই স্বর্ণ ছিনিয়ে নেন। ঘটনার রাতেই তারা ৪০ ভরি স্বর্ণ ২০ ভরি করে ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মোহাম্মদ আলী।
এদিকে ঘটনার দিন সিসি ক্যামেরার ফুটেজে জাকির হোসেনসহ দুজনকে তার অ্যাপাচি মোটরসাইকেল নিয়ে কালিনগর ব্রিজের দিকে যেতে দেখা যায়। ঘটনার দিন, আগের দিন ও পরদিন মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলে নয়ন সঙ্গে অসংখ্যবার মোবাইলে কথা হয়েছে জাকিরের। এর মধ্যে ঘটনার দুই দিন আগে ৬ আগস্ট জাকির নয়নের মোবাইল নম্বরে ১০ বার কথা বলেছেন। আগের দিন ৭ আগস্ট একই নম্বরে জাকির ২৫ বার কথা বলেছেন। ঘটনার দিন মোহাম্মদ আলীর নম্বরেও জাকির কথা বলেছেন ৭ বার। ঘটনার দিন ৮ আগস্ট জাকির ও নয়নের মোবাইলে কথা হয়েছে ১০ বার। একই দিন নয়নের বাবা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে জাকিরের কথা হয়েছে ১১ বার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ রোববার দুপুরে জানিয়েছেন, জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বাহক মোহাম্মদ আলী স্বর্ণ বের করে দিলেও কনস্টেবল জাকির এখনো দেননি। পুলিশ এই স্বর্ণ উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর ‘কোটি টাকার স্বর্ণ ছিনতাই করে লম্বা ছুটিতে কনস্টেবল জাকির’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন