প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ ও প্রধান চালিকাশক্তি। রাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রজন্মের চাওয়া হচ্ছে যে, তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে, এবং সবার ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক ভাগ্যোন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১০ জুলাই) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬’ পালিত হচ্ছে, এ কথা জানাতে আমি আনন্দিত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের একটি অন্যতম জনবহুল দেশ। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ তরুণ প্রজন্ম। দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্নও নিশ্চিত হবে। এ প্রেক্ষাপটে দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ যথার্থ এবং সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের যুব ও তরুণ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত, দক্ষ, স্বাবলম্বী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী ও উৎপাদনমুখী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, যুবসমাজের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে দক্ষ করে গড়ে তুলতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সামাজিক অবক্ষয়, মাদক, বাল্যবিবাহ এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এসব উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের বিকাশ ও জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের ওপর এই উদ্যোগগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, নাগরিক সুস্বাস্থ্য ও পরিকল্পিত পরিবার একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতির পূর্বশর্ত এবং টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়নে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে সরকার দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নেও ব্যাপকভিত্তিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃত মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা, মা-শিশু স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সেবা আরও কার্যকর এবং সর্বজনীন করতে সংশ্লিষ্ট সবার যথাযথ ভূমিকা পালন করা উচিত।
পরিশেষে, তরুণদের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও অন্যান্য সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত পরিবার পরিকল্পনা, মা-শিশু ও কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।
সবশেষে, রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতার কামনা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন