প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন কারারক্ষী রয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক।
দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ কারাগার দাঙ্গা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগোম্বো কারাগারে রোববার রাত থেকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মাদকচক্রের বন্দিদের মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। আহত বন্দি এবং কারারক্ষীদের দ্রুত নেগোম্বো জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, নেগোম্বো হাসপাতালের পরিচালক পুষ্পা গামলাথ জানান, হাসপাতাল এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মরদেহ পেয়েছে। এদিকে, আহত শতাধিক বন্দি এবং কারারক্ষী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আহতদের মধ্যে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’ কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষের সূচনা হয়। নেগোম্বো কারাগারটির ধারণক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার বন্দি, কিন্তু বর্তমানে অনেক বেশি বন্দি রয়েছেন।
পুলিশ বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কমান্ডো মোতায়েন করেছে, তবে তাদের কারাগারের ভেতরে প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সোমবার, কারাগারের বাইরে বিপুলসংখ্যক বন্দির স্বজন উপস্থিত হন। স্থানীয়রা জানান, তারা গুলির শব্দ শুনতে পাই। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোনও ব্যবহার করছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “দাঙ্গা থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে চারজন কারারক্ষী নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”
এর আগে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে কোভিড-১৯ মহামারির সময় শ্রীলঙ্কার আরেকটি কারাগারে দাঙ্গায় ১১ জন বন্দি নিহত এবং ১১৭ জন আহত হয়েছিলেন। ওই সময় সরকার অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে শত শত বন্দিকে মুক্তি দিয়েছিল।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন কারাগারে মোট ৪১ হাজার ২৫০ জন বন্দি ছিলেন, যা দেশটির কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন