প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘকাল ধরে নীরবভাবে দ্বিপক্ষীয় সংঘাত এড়ানোর পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকার। বাণিজ্য শুল্ক, সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত পাকিস্তানপ্রীতি এবং ভিসা বিধিনিষেধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের 'একপেশে' সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সরব হয়েছেন।
সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির একটি অনুষ্ঠানে, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে চরম 'স্বার্থপর' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে ওয়াশিংটন ভারতের সংবেদনশীলতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যে নমনীয়তা দেখাচ্ছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে যেসব একক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য বড় সংকট তৈরি করছে।"
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন দুই দেশের মধ্যে মতভেদের বিষয়গুলো নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা হলেও, মোদী সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এবার প্রকাশ্যে বার্তা দিচ্ছে দিল্লি। বিশেষ করে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের হুমকি এবং সম্প্রতি রুশ তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর বিলে স্বাক্ষর করায় দুদেশের সম্পর্কে বড় ধরণের চিড় ধরেছে।
এছাড়া ভারত-পাকিস্তান গত বছরের চার দিনের সীমান্ত সংঘর্ষের পর ট্রাম্প বারংবার যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে দাবি করায় দিল্লি অসন্তুষ্ট হয়েছে। ভারত কাশ্মীর ইস্যুকে কেবলই দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে দেখলেও, ট্রাম্পের ইসলামাবাদঘেঁষা নীতি এবং মার্কিন ভিসা (H-1B) ফি বৃদ্ধি সাধারণ ভারতীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে।
কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্পের এই অননুমেয় পররাষ্ট্রনীতির কারণে মোদী সরকার এখন 'ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ' (Waiting out Trump) করার কৌশল গ্রহণ করেছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন