প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলার ফলে সাম্প্রতিক কয়েকদিনে ১৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এ তথ্য চিকিৎসাকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সূত্রে জানা যায়।
নিহতদের মধ্যে শিশু এবং বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে চলমান সংঘর্ষে ড্রোনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে।
সোমবার রাজধানী খার্তুমে ড্রোন হামলায় তিনটি শিশু নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’। এই সংগঠনটি সুদানের গৃহযুদ্ধে বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এই হামলার জন্য সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ—দুই পক্ষকেই দায়ী করা হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোন হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাটি ঘটে রোববার সন্ধ্যায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পশ্চিম কোরদোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরের একটি বাজারের কাছে এই হামলা হয়। এলাকাটি আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসাকর্মীদের মতে, বাজারের দিন শেষে গ্রামের মানুষ বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় একটি পরিবহনকেন্দ্রে জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে ড্রোন হামলায় ৮০ জন নিহত হন।
বার্তা সংস্থা এএফপির সূত্রে জানা যায়, আহত ৪৭ জনকে কাছের আল-মুজলাদ শহরে নেওয়া হয়। পরে তাদের মধ্যে ৩০ জন মারা যান।
আরএসএফের স্বঘোষিত প্রশাসন ‘তাসিস’ এবং ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এই হামলার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে।
বাঁধেও ড্রোন হামলার চেষ্টা
সুদানের পূর্বাঞ্চলে গাদারেফ রাজ্যের আতবারা ও সেটিট বাঁধ লক্ষ্য করে আরএসএফের কয়েকটি ড্রোন পাঠানো হয়েছিল বলে রোববার এক সামরিক সূত্র জানিয়েছে। রাজধানী খার্তুম থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার পূর্বে বাঁধ দুটি অবস্থিত।
সামরিক সূত্রটির দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ড্রোনগুলো প্রতিহত করেছে। এ বিষয়ে আরএসএফ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সোমবার ভোরে দক্ষিণ দারফুর রাজ্যের রাজধানী ও আরএসএফের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিয়ালাতেও ড্রোন হামলা হয়। চিকিৎসা ও আরএসএফ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আরএসএফের সাতজন কর্মকর্তা রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ২৩ জন।
এর আগে শুক্রবার সুদানের ব্লু নাইল প্রদেশে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি সমাবেশে আরএসএফের ড্রোন হামলায় ৪১ জন নিহত হন। এলাকাটি ইথিওপিয়ার সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এ তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটি হামলার নিন্দা জানিয়ে একে মানবিক বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছে।
সোমবার এসব প্রাণঘাতী হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশজুড়ে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকায় আমরা উদ্বিগ্ন। এসব হামলায় শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাও ব্যাহত হচ্ছে।’
যুদ্ধে নিহত অন্তত ৫৯ হাজার
সুদানে বর্তমান যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে। দেশটির সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফপ্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে বিরোধের জেরে সংঘাত শুরু হয়। হেমেদতি নামে পরিচিত দাগালো তার আধাসামরিক বাহিনীকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে বুরহানের সঙ্গে বিরোধে জড়ান।
গত জুনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় হেমেদতিকে।
যুদ্ধ চতুর্থ বছরে গড়ালেও সংঘাত থামেনি। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে মানবিক সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর ধারণা, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরো বেশি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট বলে বর্ণনা করছে।
চলতি বছর সুদানে ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের জরুরি খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন। তাদের মধ্যে ১ কোটি ৭৩ লাখ শিশু। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৮ লাখ ২৫ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে সুদানে মানবিক যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ সৃষ্টি এবং দেশটির ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেছে চীন ও রাশিয়া।
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন